রাজনীতি

পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

পৌর চেয়ারম্যান থেকে রাষ্ট্রপতি, কখন কী ছিলেন মির্জা ফখরুল
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুল পরবর্তী সময়ে পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়গুলো তুলে ধরা হলো।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন মির্জা ফখরুল। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল।

শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরে কয়েকটি সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।

সরকারি চাকরিজীবনে তিনি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের দিকে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও কাজ করেন। ১৯৮২ সালে এস এ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত ওই দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি।

১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তার সক্রিয় পথচলা আরও দৃঢ় হয়।

সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।

বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে

২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে মির্জা ফখরুলকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। এরপর ২০১১ সালের ২০ মার্চ তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান।

দীর্ঘ পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। এরপর থেকে তিনি দলটির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকের পর তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়।

এর ফলে পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের বিএনপি মহাসচিব—রাজনৈতিক জীবনের নানা ধাপ পেরিয়ে এবার দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন মির্জা ফখরুল।

পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য

মির্জা ফখরুলের বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। তিনি পাকিস্তান প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। এরশাদ সরকারের মন্ত্রিসভাতেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

তার চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ভূমিমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আরেক চাচা উইং কমান্ডার এস আর মির্জা মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর সরকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। তাদের দুই মেয়ে—মির্জা শামারুহ ও মির্জা সাফারুহ। তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।