সারাদেশ

একমাত্র মেয়ের মৃত্যু, শেষবার দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ছুটে এলেন প্রবাসী বাবা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:০৫ পিএম

একমাত্র মেয়ের মৃত্যু, শেষবার দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ছুটে এলেন প্রবাসী বাবা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে তিন বছরের শিশু আরওয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী বাবা ওসমান গনি মেয়েকে শেষবারের মতো দেখতে ছুটে আসেন নিজ গ্রামে।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে অবতরণ করে একটি হেলিকপ্টার। সেই হেলিকপ্টারেই ছিলেন শোকার্ত বাবা ওসমান গনি। মেয়ের লাশের কাছে পৌঁছেই তিনি ভেঙে পড়েন কান্নায়। উপস্থিত শত শত মানুষও আবেগ সামলাতে পারেননি— সবার চোখেই জল নেমে আসে। পুরো এলাকা জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা, শোক আর বুকফাটা আহাজারি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসমান গনি বাদল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা পরিচালনা করছেন। দেশে থাকাকালীন সময়েই জন্ম নেয় তার একমাত্র কন্যা আরওয়া। জন্মের পর ছয়-সাত মাস মেয়ে ও পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে চলতি বছরের আগস্টে তিনি আবার আফ্রিকা ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় ছোট্ট আরওয়া। পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মেয়ের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর ওসমান গনি সঙ্গে সঙ্গেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিমানে করে ঢাকায় ফেরেন। সেখান থেকে শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারে নিজ গ্রামে পৌঁছান তিনি। গ্রামের গুণবতী স্কুল মাঠে হেলিকপ্টার নামার সময় হৃদয়বিদারক এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মেয়ের জানাজায় অংশ নিয়ে নিজ হাতে দাফন সম্পন্ন করেন শোকার্ত বাবা। এ সময় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

ওসমান গনির বন্ধু মো. ইস্রাফিল বলেন, “ওসমান আরওয়াকে শেষবারের মতো দেখতে চেয়েছিল। তাই আমরা লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িতে মেয়ের দেহ সংরক্ষণ করে রেখেছিলাম।”

ওসমানের ফুফা সাইদুল ইসলাম জানান, “বৃহস্পতিবার দুপুরে মৃত্যুর খবর পেয়ে ওসমান গনি রাতেই রওনা দেন, পরদিন সকালে গ্রামে পৌঁছান। মেয়েকে দেখে যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।”