সারাদেশ

​দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

​দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
​দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

দর্শনা পৌর প্রশাসক শাহিন আলমকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানিয়েছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার দুপুর ১২টায় দর্শনা পৌরসভা কার্যালয়ে তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

মাত্র ৯ মাসের দায়িত্ব পালনকালে দর্শনা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ, দ্রুত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন শাহিন আলম। একই সময়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করা হয়। এসব কার্যক্রমের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শনাবাসীর কাছে তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে শাহিন আলমের রাজশাহী বিভাগে বদলির কারণে তাকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। কারও কারও চোখে দেখা যায় অশ্রু।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল আলম বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পৌরসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে শাহিন আলম অল্প সময়ে যেভাবে পৌরবাসীকে সেবা দিয়েছেন, তা অভাবনীয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ থেকে সেবা দেওয়ার মানসিকতা তৈরি, সততার সঙ্গে জীবনযাপন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও কীভাবে কাজ করতে হয়, তা তিনি শিখিয়েছেন। তিনি যেখানেই থাকুন, তার মঙ্গল কামনা করেন সাজেদুল আলম।

পৌরসভার কর নির্ধারক জাহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছরের চাকরিজীবনে তিনি অনেক চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের সঙ্গে কাজ করেছেন। তবে শাহিন আলমকে কখনো শুধু প্রশাসক মনে হয়নি, বরং তিনি ছিলেন অভিভাবক ও বন্ধুর মতো। তিনি কারও সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলতেন না এবং কোনো কর্মচারীকে ছোট করে দেখতেন না। ছোট বড় সবাইকে সমান চোখে দেখতেন। তার কাছে কোনো আবদার নিয়ে গেলে কেউ খালি হাতে ফিরতেন না বলেও জানান তিনি।

বিদায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হোসনে আরা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুকুল হোসেন, পৌরসভার প্রধান সহকারী শাহ আলম শাহ, হিসাবরক্ষক আরেফিন হোসেন, লাইসেন্স পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী গোলাম কিবরিয়া ও সংরক্ষণ পরিদর্শক মোমিনুল ইসলামসহ পৌরসভার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী।