সারাদেশ
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫ জেলায় ছয়জনের মৃত্যু, কুমিল্লায় বসতবাড়িতে আগুন
মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে দেশের পাঁচটি জেলায় ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতে দগ্ধ হয়ে পুড়ে গেছে একটি বসতবাড়িও। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার (১ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মৃত্যুই ঘটেছে খোলা জায়গায় মাছ ধরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময়। নিহতদের মধ্যে কেউ মাছ ধরতে গিয়েছিলেন পুকুরে, কেউ বিলে, কেউবা ধানখেতে।
রংপুরের পীরগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু-
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের জ্যোতিডাঙ্গা বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মিজানুর রহমান (৩৫)। সকালবেলা হালকা বৃষ্টির মধ্যে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন তিনি।
পীরগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
যশোরে পৃথক দুই স্থানে বজ্রপাতে মৃত্যু-
যশোর সদর উপজেলার গাইদগাছি গ্রামে সকালে বজ্রপাতে মারা যান আবদুল হাকিম সরদার (৬৫)। তিনি খোলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় বিএনপির একজন নেতা ছিলেন।
একই জেলার কেশবপুরে মাছের ঘেরে কাজ করার সময় বজ্রপাতে মারা যান শামীম হোসেন (২৫)। তিনি সাগরদত্তকাটি গ্রামের একটি মাছের ঘেরে কাজ করছিলেন।
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম বলেন, শামীমকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
রাজশাহীর বাগমারায় খালে মাছ ধরতে গিয়ে মৃত্যু-
বুধবার সকালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার দানগাছি গ্রামে খালে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান ফজেল আলী (৩৯)। সকাল সাতটার দিকে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
নোয়াখালীতে রাতের বৃষ্টিতে ধানখেতে মৃত্যু-
নোয়াখালীর সদর উপজেলার পূর্ব চরমটুয়া গ্রামে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান মো. সাঈদ হোসেন (২৯)। মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি ধানখেতে মাছ ধরতে যান। সকালে তার মরদেহ ধানক্ষেতে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন।
সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি লোকমুখে জেনেছেন, তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
গোপালগঞ্জে বিলে মাছ ধরতে গিয়ে জেলের মৃত্যু-
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার লখন্ডা গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান সমীর বাড়ৈ (৩৫)। মঙ্গলবার রাতে বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফেরেননি তিনি। সকালে বিলের পাশে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। বজ্রপাতেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিল্লায় বজ্রপাতে পুড়ে গেল বসতবাড়ি-
একই সময়ে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি গ্রামে বজ্রপাতে আগুন ধরে যায় মো. সিরাজুল ইসলাম মোল্লার বসতবাড়িতে।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক এরশাদ হোসাইন জানান, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও বসতঘরের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
তিতাস থানার ওসি খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, আগুনে প্রায় ৬০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।