সারাদেশ

‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি’ বলার পর চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম

‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি’ বলার পর চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

সাভারে অটোরিকশা চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক ও একটি গ্যারেজের মালিককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মঙ্গলবার দুপুরে অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভ এবং গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার আগে অটোরিকশাচালক সবুজ তার ছোট ছেলেকে গাড়ি পাহারায় রেখে বাড়িতে খাবার খেতে যান। এ সময় আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি, ভাত এনে দাও।’ পরে শিশুটি বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি এসে আবুল খায়েরকে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখেন। এতে তাকে চোর সন্দেহ করা হয়।

একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর শুরু করে। পরে তাকে একটি গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে আবারও মারধর করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে মরদেহ রেখে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, আহত অবস্থায় দুজন ব্যক্তি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

নিহতের প্রতিবেশীরা জানান, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরবর্তীতে সাভার থেকে তার মৃত্যুর খবর আসে।

আটক গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান দাবি করেন, গ্যারেজে আনার আগেই স্থানীয়রা ওই যুবককে মারধর করেছিলেন। পরে গ্যারেজে কিছু চালকও তাকে মারধর করেন। তিনি নিজে মারধরে অংশ নেননি বলে জানান। তার ভাষ্য, পরে তিনি অন্য একজনের সহায়তায় আহত যুবককে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং মৃত্যুর খবর পেয়ে ভয় পেয়ে চলে আসেন।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।