সারাদেশ

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষক: তদন্তে মিলেছে তথ্য-প্রমাণ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

ভারতের ভোটার তালিকায় নাম, বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষক: তদন্তে মিলেছে তথ্য-প্রমাণ
ছবিঃ সংগৃহীত

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার খড়িয়া নবারুণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিকত্ব ও দেশটির ভোটার তালিকায় নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তদন্তে এ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিবন্ধন আধিকারিকের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় দীপক চন্দ্র সরকারের নাম রয়েছে। সেখানে তাকে উত্তর বর্ধমানের শক্তিগড় থানার ২ নম্বর বরশুল গ্রামের ১ নম্বর মনমোহন দে রোডের পশ্চিমাংশের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে একই ব্যক্তি বাংলাদেশের খুলনার পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়া ঢেমশাখালী গ্রামের ভোটার। ভোটার তথ্য অনুযায়ী তার বাবার নাম নগেন্দ্র নাথ সরকার এবং মায়ের নাম সুমিত্রা রানী সরকার।

স্থানীয়দের দাবি, দীপকের স্ত্রী অপর্ণা সরকার, মেয়ে জয়শ্রী সরকার, বড় ভাই দুলাল চন্দ্র সরকার, ভাবী সুশীলা সরকার, ছোট ভাই তাপস সরকার ও তার স্ত্রী বর্ণালী সরকার স্থায়ীভাবে ভারতের নাগরিক ও ভোটার।

এদিকে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালে বিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়রা মিছিল-সমাবেশ ও বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপিও দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনটি পদে অন্তত ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ অর্থবছরের পাঁচ লাখ টাকা প্রণোদনা অনুদান ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে প্রণোদনার অর্থের একটি অংশ যথাযথভাবে ব্যয় হলেও বাকি অর্থের ব্যয় দেখানো কাজের বিল-ভাউচার যথাযথ নয় বলে প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে উপজেলা রিসোর্স অফিসার মো. ঈমান উদ্দিন ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান আলীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আরেকটি প্রতিবেদন জমা দেয়। একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম ছায়েদুর রহমানও বিষয়টি তদন্ত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র সরকার অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি দ্বৈত নাগরিক এবং ভারতের নাগরিক হয়েও বাংলাদেশ সরকারের বেতন-ভাতা নিয়ে থাকলে তা আইনগতভাবে গুরুতর বিষয়। পাশাপাশি নিয়োগ ও বিদ্যালয়ের বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক দীপক চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, ‘আমি এ দেশের নাগরিক। ভারতের ভোটার নই। স্কুলের অনুদান আত্মসাৎ কিংবা নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্যের অভিযোগও সত্য নয়।’

প্রশাসনের তদন্তে ভারতীয় ভোটার তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি এবং প্রধান শিক্ষকের অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে বিষয়টি এখন আরও তদন্তের দাবি রাখছে।