সারাদেশ

ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে সকলকে নিয়ে এগোতে চাই: জামায়াত আমির


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

ভয়ের সংস্কৃতি ভেঙে সকলকে নিয়ে এগোতে চাই: জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “কোনো পরিস্থিতিতেই যারা মুসলমান নন, তারা কেন ভয়ের সংস্কৃতিতে থাকবে? সেই ভয়ের সংস্কৃতিকে আমরা গুঁড়িয়ে দিতে চাই। এই দেশ আমাদের সবার, সবাইকে নিয়েই আমরা চলব।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় নওগাঁ শহরের এটিম মাঠে নওগাঁ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, “যারা সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার গাইবান্দার সাহেবগঞ্জে সাঁওতাল পল্লীতে কী করেছে, তা কি আপনারা দেখেননি? তারা কি আমাদের ভাই-বোন নয়? তারা কি এ দেশের নাগরিক নয়? আমরা সবাইকে বুকে ধারণ করে সামনে এগোবো।”

নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “মায়েদের ঘরে, চলাচলে ও কর্মস্থলে সর্বত্র নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। কোনো জালিম সাহস পাবে না নারীদের দিকে কুনজর দেওয়ার। সেই পরিবেশ আমরা তৈরি করব।”

তিনি আরও বলেন, “এখনই যারা উত্তেজিত হচ্ছে, তাদের বলি-মাঘ মাসে মাথা গরম করবেন না, সামনে চৈত্র মাস। মানুষ কী ভাবছে, কান পেতে শুনুন। দেশ বাঁচলে আপনিও বাঁচবেন। ইনশাআল্লাহ আগামী ভোট হবে ইনসাফের প্রতীক।”

নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হুমকির বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “নারীদের গায়ে হাত দেওয়া, হুমকি দেওয়া বন্ধ না করলে আবারও জনগণ গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান কেউ সহ্য করবে না।”

রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু রাজার ছেলে রাজা হবে-এই বংশানুক্রমিক রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে। একজন রিকশাচালকের সন্তানের মধ্যেও যদি মেধা থাকে, সেই মেধা বিকশিত করে তাকেই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী বানাতে হবে। তাহলেই দুঃখী মানুষের কষ্ট বোঝা যাবে।”

ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “চাঁদাবাজি আমরা করি না, কাউকে করতেও দেব না। দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেব না। ব্যাংক লুটেরাদের সঙ্গে আমাদের কোনো আপস নেই। যারা মামলা-বাণিজ্য করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গত ৫৪ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা ব্যাংক-বীমা লুট করেছে, মেগা প্রকল্পে মেগা দুর্নীতি করেছে এবং টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ক্ষমতায় এলে সেই লুটের টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।”

নওগাঁকে উত্তরবঙ্গের কৃষির রাজধানী উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, “দেশের মোট উৎপাদনের বড় অংশ আসে এই জেলা থেকে, কিন্তু নওগাঁ তার ন্যায্য পাওনা পায়নি। নওগাঁ শহরের মধ্য দিয়ে চলা প্রধান সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার, ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প ও পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো হবে।”

নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমির ও নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী খবিরুল ইসলাম, ডাকসুর সাবেক জিএস এস এম ফরহাদ, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।