খেলা

আইপিএলে মোস্তাফিজকে ৯.২ কোটি রুপিতে দলে নেওয়া নিয়ে ত্রিপুরার মহারাজার ক্ষোভ


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:১১ পিএম

আইপিএলে মোস্তাফিজকে ৯.২ কোটি রুপিতে দলে নেওয়া নিয়ে ত্রিপুরার মহারাজার ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলের নিলামে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভারতের ত্রিপুরার মহারাজা ও তিপ্রা মথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা।

তার অভিযোগ, বিদেশি ক্রিকেটারদের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করা হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষিত হচ্ছেন।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ও আইপিএল কর্তৃপক্ষের নীতির সমালোচনা করেন প্রদ্যোত। তিনি বলেন, কোটি কোটি রুপি দিয়ে বিদেশি খেলোয়াড় কেনা হলেও ত্রিপুরার মণিশংকর মুরাসিংয়ের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করা খেলোয়াড়দের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে না।

প্রদ্যোতের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের অনেক ক্রিকেটার নিয়মিত পারফরম্যান্স দেখালেও সুযোগের অভাবে আড়ালে থেকে যাচ্ছেন। আইপিএলের নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানের বড় অঙ্কের চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে এই অঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রতি বৈষম্যের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যখন একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি পান, অথচ আমাদের ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা অবহেলিত থাকেন, তখন একজন ভারতীয় হিসেবে প্রশ্ন তোলাটা স্বাভাবিক।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রদ্যোত আরও বলেন, সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও ভারতের স্বার্থবিরোধী বক্তব্যের অভিযোগ রয়েছে। এমন বাস্তবতার মধ্যেও বাংলাদেশের নাগরিকদের কোটি কোটি টাকা দিয়ে আইপিএলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে—এটি কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে প্রদ্যোত বলেন, জাতীয় আবেগ ও নিরাপত্তার কথা বলে পাকিস্তানকে বয়কট করা হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তার প্রশ্ন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মসম্মানের চেয়ে কি অর্থনৈতিক স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

এ বিষয়ে ভারতের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নীরবতা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিপ্রা মথা প্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই কি আগে ভারতীয় নই? তাহলে এই প্রশ্নগুলো নিয়ে অন্যরা চুপ কেন?’

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে বিসিসিআইয়ের দায়িত্ব নিয়েও আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান প্রদ্যোত কিশোর। তার ভাষায়, এখন সময় এসেছে ভেবে দেখার—প্রাধান্য পাবে জাতীয় সম্মান ও নিরাপত্তা, নাকি কেবল ব্যবসায়িক লাভ।