খেলা
আপত্তিকর মন্তব্যে বিসিবি পরিচালক নাজমুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে।
নোটিশে তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তার জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বিসিবি। একই সঙ্গে বিপিএলের চূড়ান্ত পর্ব নির্বিঘ্নে শেষ করতে ক্রিকেটারদের সহযোগিতা কামনা করেছে বোর্ড।
এর আগে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এম নাজমুল ইসলাম বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গিয়ে ক্রিকেটাররা যদি ভালো পারফরম্যান্স করতে না পারেন, তাহলে তাদের পেছনে খরচ হওয়া কোটি কোটি টাকা ফেরত চাওয়া যায় কি না-এমন মন্তব্য করেন তিনি। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
এছাড়া কয়েক দিন আগে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে মন্তব্য করেও বিতর্কে জড়ান তিনি। একের পর এক এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) তার পদত্যাগ দাবি করে।
বুধবার রাতেই কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “একজন দায়িত্বশীল বোর্ড পরিচালক এভাবে ক্রিকেটারদের নিয়ে কথা বলতে পারেন না। আমরা তার পদত্যাগ চাই। বৃহস্পতিবার বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে তিনি পদত্যাগ না করলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করব।”
এই পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার রাতেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি জানায়, কোনো পরিচালকের ব্যক্তিগত মন্তব্যের দায় বোর্ড নেবে না। ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি উল্লেখ করে, বোর্ডের একজন সদস্যের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য অনুচিত, আপত্তিকর এবং খেলোয়াড়দের জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য বিসিবি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে এবং মনে করে, এসব মন্তব্য বোর্ডের নীতি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিসিবি আরও কঠোরভাবে সতর্ক করে জানায়, কোনো ব্যক্তি যদি ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ করেন বা বাংলাদেশের ক্রিকেটের সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেন, তবে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বোর্ড স্পষ্ট করেছে, পরিচালকের পদে থাকলেও কেউই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নন।
বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি পুনর্ব্যক্ত করে, ক্রিকেটাররাই বাংলাদেশ ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু। অতীতে ও বর্তমানে যারা দেশের জন্য অবদান রেখেছেন, তাদের প্রতি বোর্ডের পূর্ণ সম্মান ও সমর্থন রয়েছে। ক্রিকেটারদের মর্যাদা ও কল্যাণ রক্ষায় বিসিবি সবসময় অটল থাকবে এবং ক্রিকেটের প্রতিটি স্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে বোর্ড।