খেলা

ফিলিস্তিনকে নিজেদের ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করল মিশর, গাজাজুড়ে আনন্দের ঢেউ


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

ফিলিস্তিনকে নিজেদের ঐতিহাসিক জয় উৎসর্গ করল মিশর, গাজাজুড়ে আনন্দের ঢেউ
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে মিশর। তবে এই সাফল্য নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি দলটি। অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর মিশরের প্রধান প্রশিক্ষক হোসাম হাসান এই জয় ফিলিস্তিনের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করেন। তার এমন আবেগঘন ঘোষণার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়ও দেখা গেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের বিরল দৃশ্য।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে মিশর ও অস্ট্রেলিয়া ১-১ সমতায় ছিল। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল আফ্রিকার দেশটি।

ম্যাচের ১৩ মিনিটে ইমাম আশুরের মাথা ছোঁয়া গোলে এগিয়ে যায় মিশর। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারায় খেলার নিষ্পত্তি হয় টাইব্রেকারে। সেখানে জয়সূচক শট থেকে গোল করেন হোসাম আবদেলমাগুইদ। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সাউতার ও লুকাস হেরিংটন শট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মিশর।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় হোসাম হাসান বলেন, আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয় আমি মিশরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।

জয়ের পর মাঠে মিশর ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে উদযাপন করেন হোসাম হাসান। খেলোয়াড়রাও মাঠে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে ঐতিহাসিক এই সাফল্যের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

প্রশিক্ষকের এই বার্তা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গাজার অনেক বাসিন্দা ও ফিলিস্তিনের সমর্থকেরা মিশরের জয়কে নিজেদের আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে উদযাপন করেন।

গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, জীবনে এই প্রথম এতটা উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বকাপের খেলা দেখেছি। মিশরের জয় আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। তবে সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া দৃশ্য ছিল ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবু থেকে হাজারো মানুষ একসঙ্গে বেরিয়ে এসে খেলা উপভোগ করা। চারদিকে ছিল হাসি আর উল্লাস।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন দৃশ্যে দেখা যায়, বোমায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় শত শত মানুষ খেলা দেখছেন। অনেক শিশুর মুখে আঁকা ছিল মিশরের পতাকা। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিত দর্শকেরা। যুদ্ধের ভয়াবহতার মাঝেও ফুটবল যেন তাদের জীবনে কিছুটা আনন্দ ও স্বস্তির মুহূর্ত এনে দেয়।