খেলা

বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক সুইডেন নায়ক ইয়াসিনের  


স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১১:১১ এএম

বাবার দেশের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক সুইডেন নায়ক ইয়াসিনের  
ছবিঃ সংগৃহীত

বিশ্বকাপে অভিষেক যে কোনো ফুটবলারের ক্যারিয়ারে এটি এক অনন্য মুহূর্ত। আর সেই অভিষেক যদি হয় বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে, তবে তা নিঃসন্দেহে আরও আবেগঘন। সুইডেনের মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি ঠিক এমনই এক স্মরণীয় অধ্যায় লিখলেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই সুইডেনের জয়ে নায়ক হয়ে ওঠেন ইয়াসিন। জোড়া গোল করার পাশাপাশি দলের আরেকটি গোলের পথও তৈরি করে দেন তিনি। ফলে অভিষেক ম্যাচটিই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।

ইয়াসিনের বাবা আজ্জুজ আয়ারির জন্ম ও বেড়ে ওঠা উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায়। পরবর্তীতে জীবিকার তাগিদে তিনি পাড়ি জমান সুইডেনে। সেখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইয়াসিনের। ফুটবলে প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার পর তিউনিসিয়া জাতীয় দলের পক্ষ থেকে তাকে দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি ২০২২ বিশ্বকাপে দেশটির হয়ে খেলার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

তবে শেষ পর্যন্ত জন্মভূমি সুইডেনকেই বেছে নেন ইয়াসিন। এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবার। এক সাক্ষাৎকারে আজ্জুজ আয়ারি বলেছিলেন, “সুইডেনই তাকে সুযোগ দিয়েছে, গড়ে তুলেছে। তাই এই দেশের হয়ে খেলাই তার দায়িত্ব।”

বাবার পরামর্শের পর ইয়াসিনের কাছেও সিদ্ধান্তটি স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি বলেন, “আমি সুইডেনে জন্মেছি, নিজেকে সুইডিশ মনে করি। সুইডেনই সেই দেশ, যাকে আমি প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।”

ম্যাচের আগে তিউনিসিয়ার কোচ সাবরি লামুশি ইয়াসিনের প্রশংসা করে বলেন, তিনি তার সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন এবং তাকে একজন অসাধারণ ফুটবলার হিসেবে দেখেন।

ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই সেই আস্থার প্রতিদান দেন ইয়াসিন। দুর্দান্ত এক গোলে সুইডেনকে এগিয়ে দেন তিনি। বাবার দেশের বিপক্ষে গোল করায় অতিরিক্ত উল্লাস না করে দুই হাত তুলে সংযত উদযাপন করেন। পরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এতেই শেষ নয়, সুইডেনের আরেকটি গোল তৈরিতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়াসিন। তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি—কারণ বিশ্বকাপের অভিষেকে এমন পারফরম্যান্স খুব কম খেলোয়াড়ই দেখাতে পারেন।

বাবার জন্মভূমির বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেক, জোড়া গোল আর দুর্দান্ত নৈপুণ্য—সব মিলিয়ে ইয়াসিন আয়ারির জন্য এটি হয়ে থাকবে আজীবনের এক স্মরণীয় রাত। না ইয়াসিন!