রাজধানী

ঢাকার বাসাবাড়িতে বিষধর সাপের আতঙ্ক, সাড়ে তিন মাসে উদ্ধার ৩২১টি সাপ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম

ঢাকার বাসাবাড়িতে বিষধর সাপের আতঙ্ক, সাড়ে তিন মাসে উদ্ধার ৩২১টি সাপ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে বিষধর সাপের উপস্থিতি। অট্টালিকা ঘেরা এই মহানগরেও এখন প্রায়ই দেখা মিলছে প্রাণঘাতী গোখরার। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক সাপ উদ্ধার করেছে প্রাণী উদ্ধার সংস্থা বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। 

সংস্থাটির আহ্বায়ক আদনান আজাদ জানিয়েছেন, গত সাড়ে তিন মাসে (মে থেকে অক্টোবর) তারা ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে ৩২১টি সাপ উদ্ধার করেছেন, যাদের অধিকাংশই বিষধর পদ্মগোখরা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, বনশ্রী, মোহাম্মদপুর, বছিলা ও আফতাবনগর এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিকেতন ও মিরপুরের বেশ কিছু আবাসিক ভবন থেকেও সাপ উদ্ধার করেছে তাদের টিম। অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, মে মাসে বনশ্রীর একটি ফ্যাক্টরি থেকে বিষধর গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়। 

জুন মাসে মোহাম্মদপুরের একটি বহুতল ভবনের নবম তলা থেকে তিনটি সাপ এবং উত্তরার পঞ্চম তলা থেকে আরেকটি সাপ উদ্ধার করা হয়। আগস্টে ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কাফরুল ও বছিলার দুটি ভবন থেকে ‘ঘরগিন্নি’ ও পদ্মগোখরা প্রজাতির সাপ উদ্ধার করা হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে নিকেতনের একটি বিলাসবহুল ভবন থেকে মাঝরাতে উদ্ধার করা হয় প্রাণঘাতী গোখরা, আর অক্টোবরে বনশ্রীর একটি বাসা থেকে ধরা হয় বিশাল আকারের পদ্মগোখরা সাপ।

তবে সংস্থাটির আহ্বায়ক আদনান আজাদ বলেন, “আমরা উদ্ধার অভিযান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খুব কম পোস্ট দিই, কারণ এতে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে।” 

তিনি জানান, সাপগুলো শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ছে মূলত প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস ও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায়। তার ভাষায়, “আমরা যেসব সাপ উদ্ধার করছি, সেগুলোর বেশিরভাগই পদ্মগোখরা, যা পানিপ্রিয় প্রজাতির সাপ। আগে আফতাবনগর, বনশ্রী বা বিটিভির পেছনের এলাকায় অনেক জলাশয় ছিল। এখন সেসব জায়গা আবাসনে পরিণত হওয়ায় সাপগুলো আশ্রয় হারিয়েছে। টানা বৃষ্টিতে গর্ত ও জলাশয় ডুবে গেলে তারা শুকনো জায়গার খোঁজে বাসায় ঢুকে পড়ে।”

এ ছাড়া শহরে উচ্ছিষ্ট খাবার যত্রতত্র ফেলে রাখাও সাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করেন তিনি। “নগরের দুই বাড়ির মাঝের ফাঁকা জায়গায় খাবার ফেলে দিলে সেখানে ইঁদুর আসে, আর ইঁদুরের পিছু পিছু সাপও ঢুকে পড়ে,” বলেন আদনান আজাদ।

তিনি আরও জানান, “গত সাড়ে তিন মাসে আমরা শুধু ঢাকা জেলা থেকেই ৩২১টি সাপ উদ্ধার করেছি, যার মধ্যে অনেক বাচ্চা সাপও রয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় পদ্মগোখরার ডিম ফোটার মৌসুম, তাই সামনের দিনগুলোতে সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। তবে আমরা উদ্ধারকাজে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত আছি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় জলাশয় ও সবুজ এলাকার ক্রমাগত ধ্বংসের ফলে সাপের প্রাকৃতিক আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। তাই টানা বৃষ্টি ও আশ্রয়ের অভাবে তারা এখন মানুষের বাড়িতেই ঢুকে পড়ছে, যা নগরবাসীর জন্য এক নতুন ধরনের প্রাকৃতিক বিপদসংকেত হয়ে উঠছে।