অর্থনীতি

নারায়ণগঞ্জে নিকোটিন পাউচ কারখানা স্থাপনের অনুমোদন পেল ফিলিপ মরিস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০১:৩৮ পিএম

নারায়ণগঞ্জে নিকোটিন পাউচ কারখানা স্থাপনের অনুমোদন পেল ফিলিপ মরিস
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বৈশ্বিক তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিসকে ঢাকার নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোনমিক জোনে নিকোটিন পাউচ উৎপাদনের জন্য কারখানা স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী সংস্থাটিকে এক বছরের মধ্যে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

নিকোটিন পাউচ দেখতে ছোট টি-ব্যাগের মতো, যার ভেতরে রাসায়নিক মিশ্রিত নিকোটিন, সুগন্ধি ও অন্যান্য উপকরণ থাকে। সংস্থাটি দাবি করেছে, এটি ‘অ্যান্টি-নিকোটিন প্রোডাক্ট’, যা ধূমপায়ীদের জন্য প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কিছুটা কম ক্ষতিকর হতে পারে।

তবে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠন এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় বাজারে এই ধরনের পণ্যের উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। তারা মনে করেন, নিকোটিন পাউচ মূলত নতুন করে তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরির বাণিজ্যিক কৌশল, যা ধূমপান ত্যাগে সহায়ক বলে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াবে।

বেজার পক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদন বা রপ্তানির ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। সংস্থার প্রাথমিক বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৫৮.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বছরে উৎপাদন ক্ষমতা হবে পাঁচ হাজার ৩৬৩ লাখ ইউনিট।

সংস্থাটির প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় সংস্থাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) অনুমোদিত কাগজপত্র দাখিল করতে হবে। এফডিএ নিকোটিন পাউচকে তামাকজাত পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

তামাকবিরোধী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যান্টি-টোব্যাকো অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি এই আসক্তিকর পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করার জন্য তারা সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি মনে করছে, ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে প্রচারিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি স্বাস্থ্যঝুঁকি আড়াল করে এবং দীর্ঘমেয়াদে নতুন ভোক্তা তৈরি করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিকোটিন পাউচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে যেখানে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার হার ইতিমধ্যেই উচ্চ। ডেন্টাল সার্জন অধ্যাপক অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, “এই ধরনের পণ্য মুখের নানা রোগের কারণ হতে পারে। মাড়ির প্রদাহ থেকে শুরু করে আলসার ও পরে ক্যানসারে রূপান্তরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি।”

জাতীয় যুব পরিষদের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ সাকিব বলেছেন, নতুন তামাক বা নিকোটিন উদ্যোগের অনুমোদন দেওয়া মানে বিপজ্জনক বার্তা প্রেরণ করা। তার মতে, বাণিজ্যিক স্বার্থ জনস্বাস্থ্যের চেয়ে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

পাবলিক হেলথ ল’ ইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ উল্লেখ করেছেন, এই অনুমোদন ২০১৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী। তিনি বলেন, ক্ষতিকর এই পণ্যের অনুমোদন দিয়ে বেজা আদালতের নির্দেশনা ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

বেজার পক্ষ বলেছে, ফিলিপ মরিস সব শর্ত পূরণ করেছে এবং বাংলাদেশে নিকোটিন পাউচ উৎপাদন বা রপ্তানিতে কোনো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। তারা উল্লেখ করেছে, পণ্যটি প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নের প্রক্রিয়াও চলছে।

এদিকে ফিলিপ মরিস বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখনও গণমাধ্যমকে কোনো মন্তব্য দেওয়া হয়নি।