সারাবিশ্ব

ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার মানুষ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫২ এএম

ইউক্রেনের হামলার প্রভাবে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভোগান্তিতে রাশিয়ার মানুষ
ছবিঃ সংগৃহীত

ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় তেল সংরক্ষণাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়াজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম সংকটটি এত বড় পরিসরে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মস্কো থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ভোলগদায় ফেরার পথে রুশ দম্পতি ইয়েলেনা ও দিমিত্রিকে একের পর এক চারটি পেট্রোল পাম্প ঘুরতে হয়। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম একটি পাম্পে গিয়ে তারা জ্বালানি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন।

ভোলগদাসহ রাশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলে এখন একই চিত্র। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে জ্বালানি সংকট চলছে। আগে যেখানে সহজেই জ্বালানি পাওয়া যেত এবং ইউরোপের তুলনায় দামও ছিল কম, সেখানে এখন বহু মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

গাড়িতে বসে অপেক্ষা করতে করতে ইয়েলেনা বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি! এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। দেখি, পেট্রোল আদৌ অবশিষ্ট আছে কি না।’

তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সংকটকে অতটা গুরুতর নয় বলে দাবি করেছে। ক্রেমলিনের অভিযোগ, ইউক্রেনের উদ্দেশ্য রুশ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভাজন সৃষ্টি করা।

অন্যদিকে রাজধানীর বাইরে সাধারণ চালকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশাল আয়তনের দেশ রাশিয়ায় অধিকাংশ অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়িই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম হওয়ায় জ্বালানির সংকট মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও চলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এএফপির হিসাব অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুন মাস থেকে রাশিয়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং বা সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।

ভোলগদায় কিছু পেট্রোল পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আর যেগুলো চালু আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন চালকেরা।

সূত্র: এএফপি।