সারাবিশ্ব
ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছাড়তেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৪ ভারতীয় নাবিক
ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ত্যাগের পরপরই একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় চার ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন ভারতীয় নাবিক গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউক্রেন এ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করলেও ভারত হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রকাশিত বিবৃতিতে রাশিয়ার নাম উল্লেখ করেনি।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ওডেসা বন্দর ছাড়ার সময় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী এমভি গোল্ডেন লিও জাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, জাহাজটিতে মোট ১৭ জন নাবিক ছিলেন, যার মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহত নাবিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ভারত বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক নাবিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা, বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাহাজটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের মতে, কৃষ্ণসাগর এলাকায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, ভুট্টাবাহী গোল্ডেন লিও জাহাজটিতে ভারতীয় ও সিরীয় নাবিকরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সারা রাত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মোট নয়জন নাবিক এবং একজন মেরিটাইম পাইলট নিহত হন। জাহাজটির ১৭ জন নাবিকের মধ্যে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটির মালিক মুম্বাইভিত্তিক ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড। ওডেসা অঞ্চলের ইউক্রেনীয় গভর্নর জানিয়েছেন, চলতি মাসে ওই অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, সোমবার রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে একটি বাসে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। একই দিনে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রাশিয়ার হামলায় আরও অন্তত আটজনের প্রাণহানি ঘটে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুদ্ধরত উভয় পক্ষই হামলার তীব্রতা আরও বাড়িয়েছে।