আইন আদালত

এবার গুলশান থানার সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার মেজর সাদিকের স্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ পিএম

এবার গুলশান থানার সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার মেজর সাদিকের স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে গুলশান থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এ আদেশ দেন।

আদালতে গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গেরিলা প্রশিক্ষণের অভিযোগে ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় গত ৬ আগস্ট সুমাইয়া জাফরিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ৭ আগস্ট তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ১২ আগস্ট তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ১১ ডিসেম্বর গুলশান থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সুমাইয়া জাফরিনকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামুন। আবেদনে বলা হয়, এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যান্য আসামিদের জবানবন্দি ও স্থানীয়ভাবে পরিচালিত তদন্তে সুমাইয়ার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও সুমাইয়া জাফরিন নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের অর্থদাতা, পরামর্শদাতা ও নির্দেশদাতা হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে দেশবিরোধী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পাশাপাশি তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অর্থ সহায়তা দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল সকালে গুলশান-১ এর জব্বার টাওয়ারের পাশে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ব্যানারে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় তারা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশবিরোধী স্লোগান দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সেদিনই গুলশান থানায় মামলা দায়ের করা হয়।