জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী নিয়ে টিআইবির বিবৃতি ভুল: প্রেস উইং
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী দলের সদস্য সংখ্যা নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে বিবৃতি দিয়েছে, তা “ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি” বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বিষয়টি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের সংখ্যা নিয়ে টিআইবি যে তথ্য দিয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এবারের প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ৬২ জন, যা অতীতে শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে পাঠানো দলের তুলনায় তুলনামূলকভাবে ছোট। টিআইবির দাবি অনুযায়ী সদস্য সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে এমনটি সঠিক নয়।”
তিনি আরও জানান, গত বছরের (২০২৪) প্রতিনিধিদলে সদস্য সংখ্যা ছিল ৫৭ জন। এবারের সফরসঙ্গীদের মধ্যে অন্তত এক-তৃতীয়াংশই নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যারা প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের প্রবাসী সমর্থকদের কাছ থেকে প্রকাশ্য হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।”
প্রেস সচিব আরও দাবি করেন, প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধিদল অনেক বেশি “মনোযোগী, কর্মঠ এবং ফলাফলমুখী”। ইতোমধ্যে দলটি ছয়টির বেশি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ অন্তত এক ডজন উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নিয়েছে।
শফিকুল আলম বলেন, “টিআইবি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছতার পক্ষে তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তবে যাচাই-বাছাই না করে কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে বিবৃতি দেওয়া দুঃখজনক।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সফরসঙ্গী দলে কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনীতিক আছেন, যাদের প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে যুক্ত করা হয়েছে, তবে তারা বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলের অংশ নন। তারা রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নিচ্ছেন।
এছাড়া তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতাদেরও এই সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং তাদের সহায়তার জন্য কয়েকজন কর্মকর্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রেস সচিবের ভাষ্য, “এটি একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
প্রসঙ্গত, টিআইবি সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে, যা ব্যয় ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রেক্ষিতে প্রেস উইং এই বক্তব্য দেয়।