জাতীয়

আজ মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫৭ এএম

আজ মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস
ছবি: সংগৃহীত

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তির সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারে সিপাহি-জনতা একত্রে রাজপথে নেমে এসেছিল। ইতিহাসের সেই দিনে গঠিত হয় সৈনিক ও জনতার এক অটুট সংহতি-যার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে আসেন তৎকালীন উপসেনাপ্রধান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

১৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানের ফলে দেশ এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। সেনাবাহিনী ও জনগণ বিভক্ত হয়ে পড়ে, রাষ্ট্রীয় শূন্যতার মধ্যে জাতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। তাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে মুক্ত হন স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। শুরু হয় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়—যেখানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে ফিরে আসে স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

যদিও ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানকে পৈশাচিকভাবে হত্যা করা হয়, তবুও তার আদর্শ ও ৭ নভেম্বরের চেতনা আজও জাতীয়তাবাদী শক্তির অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক এই দিনটি স্মরণ করে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশের দলীয় কার্যালয়ে সকাল ৬টায় জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেছে। সকাল ১০টায় দলের সিনিয়র নেতারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করেন।

দিবসটি উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে র‍্যালি অনুষ্ঠিত হবে। সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ র‍্যালি ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হবে।

দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, “৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র পুনর্গঠনের আন্দোলনে শামিল হতে হবে। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সব মহানগরী ও জেলা শাখাকে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে এদিনে মুক্তিকামী জনতা রাজপথে নেমে আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছিল।”

আজকের এই দিনে ৭ নভেম্বরের চেতনায় দেশপ্রেম, ঐক্য ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের শপথ নিয়েছে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দলগুলো। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—সিপাহি-জনতার ঐক্যই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় শক্তি।