জাতীয়

৫ বছরেও না ফিরলে ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল, অধ্যাদেশ অনুমোদন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

৫ বছরেও না ফিরলে ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল, অধ্যাদেশ অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

গুম হওয়া কোনো ব্যক্তি টানা পাঁচ বছর নিখোঁজ থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘গুম’ ঘোষণা করার ক্ষমতা পাবে ট্রাইব্যুনাল। এ সংক্রান্ত বিধান রেখে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে নিখোঁজ থাকলে এবং তার জীবিত ফিরে আসার প্রমাণ না মিললে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল তাকে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। একই সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল-এর জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভুক্তভোগী বা অভিযোগকারী নিজ উদ্যোগে ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারবেন। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা তার ওপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যরা কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই ওই ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারবেন বলেও সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে।

বৈঠকে আরও অনুমোদন দেওয়া হয় বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ায়। হাওর ও জলাভূমির অনন্য বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় এই অধ্যাদেশে উন্নয়ন অধিদপ্তরের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও অধিক্ষেত্র স্পষ্ট করা হয়েছে। হাওর ও জলাভূমি এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা, নিষিদ্ধ কার্যক্রম নির্ধারণ এবং এসব অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, হাওর ও জলাভূমি এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ছাড়া সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং সংরক্ষণ কার্যক্রমে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়া বৈঠকে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের একটি নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এতদিন জেনেভায় অবস্থিত স্থায়ী মিশনের মাধ্যমেই কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত ও উন্নয়ন সহযোগিতা বিবেচনায় নিয়ে বার্নে দূতাবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একজন রাষ্ট্রদূতসহ সীমিত জনবল দিয়ে দূতাবাসের কার্যক্রম শুরু হবে।

বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থার বিষয়েও আলোচনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়। এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান নিয়মিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। হাদির চিকিৎসা তদারকিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন।

সবশেষে, এবছর মহান বিজয় দিবস সুশৃঙ্খল ও সুন্দরভাবে উদযাপনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ।