জাতীয়
বাণিজ্য-শ্রমবাজারসহ ৯ বিষয়ে একমত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ নয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহৎ আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মালয়েশিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এ সময় সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময়ও প্রত্যক্ষ করেন তাঁরা।
তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, বাংলাদেশের জন্য এটি শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দুই দেশ প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০২৭ সালের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই নেতা উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার বাংলাদেশ। তাই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ জোরদারে যৌথ ব্যবসায়িক পরিষদ গঠনের অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা।
টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণেও একমত হয়েছে দুই দেশ।
বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক বাণিজ্য জোটে বাংলাদেশের যোগদানের আগ্রহের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির মতে, ভবিষ্যতে ওই জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আঞ্চলিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ এ সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলার আগ্রহের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে গঠনমূলক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
বৈঠকে শ্রমবাজার প্রসঙ্গ বিশেষ গুরুত্ব পায়। মালয়েশিয়ার উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং বিদ্যমান সমঝোতা হালনাগাদ করতে যৌথ কার্যকরী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আর্থিক প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল প্রশাসন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও একমত হয়েছেন দুই নেতা। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
জ্বালানি খাতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ বিভিন্ন খাতে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, সামরিক দক্ষতা উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সন্ত্রাসবাদ ও মানবপাচার মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। মালয়েশিয়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পক্ষে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিন ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, আন্তর্দেশীয় অপরাধসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়। আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।