রাজনীতি

উপদেষ্টাদের দুর্নীতির অভিযোগ সাত্তারের ব্যক্তিগত, বিএনপির নয়: ফখরুল


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৫, ০১:৪৭ পিএম

উপদেষ্টাদের দুর্নীতির অভিযোগ সাত্তারের ব্যক্তিগত, বিএনপির নয়: ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সততার ওপর বিএনপির পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাবেক একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারের করা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।

শনিবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাতে বাসসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি বলতে চাই, এটা আমাদের নয়। এর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্তর্বর্তী সরকারের সব উপদেষ্টাকে অত্যন্ত সম্মান করি এবং তাদের সততা ও নিষ্ঠার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “ওই বক্তব্যের দায় সম্পূর্ণভাবে আবদুস সাত্তারের নিজের। দল এ বিষয়ে কোনো দায়ভার নিচ্ছে না।”

উল্লেখ্য, আবদুস সাত্তার ২০১৫ সাল থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে দলের একাধিক সূত্র। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর নেন এবং অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর তাকে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়। আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি অফিসার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরামের সভাপতি হন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি প্রশাসনে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন।

গত শুক্রবার রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও আগামী দিনের জনপ্রশাসন’ শীর্ষক এক সেমিনারে কয়েকজন উপদেষ্টার দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন আবদুস সাত্তার। ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোখলেস উর রহমানসহ বহু প্রশাসনিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

এ ঘটনার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং শনিবার এক বিবৃতিতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে। বিবৃতিতে বলা হয়, সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আবদুস সাত্তার নাম উল্লেখ না করে কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। এসব অভিযোগ সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। প্রমাণ ছাড়া এমন ঢালাও অভিযোগ দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমাদের প্রশাসন স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যদি আবদুস সাত্তারের কাছে কোনো অসদাচরণের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকে, আমরা তাঁকে যথাযথ আইনগত ও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত জমা দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হলেও বিএনপি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এটি দলের কোনো অবস্থান নয় বরং সম্পূর্ণভাবে আবদুস সাত্তারের ব্যক্তিগত মন্তব্য।