প্রবাস
যুক্তরাজ্যের ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম
যুক্তরাজ্যে দক্ষ কর্মী এবং বিভিন্ন ক্যাটাগরির চাকরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা আরও কঠোর করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যারা স্কিলড ওয়ার্কার, স্কেল-আপ এবং হাই পটেনশিয়াল ইন্ডিভিজুয়াল (এইচপিআই) ক্যাটাগরিতে ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের ইংরেজি ভাষায় "এ লেভেল" মানের দক্ষতা দেখাতে হবে।
এই নতুন শর্ত ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। আগে যেখানে ভাষার প্রয়োজনীয়তা ছিল বি১ লেভেল, এখন সেটি বাড়িয়ে বি২ করা হয়েছে, যা কমন ইউরোপিয়ান ফ্রেমওয়ার্ক ফর ল্যাঙ্গুয়েজ অনুযায়ী অপেক্ষাকৃত উচ্চতর স্তর।
ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানান, "আপনি যদি আমাদের দেশে আসেন, তাহলে আমাদের ভাষা শেখা ও দায়িত্ব পালনের মানসিকতা থাকতে হবে।" তিনি আরও বলেন, যারা সমাজে অবদান রাখেন, যুক্তরাজ্য তাদের স্বাগত জানায়, তবে ভাষা না জেনে এ দেশে আসা গ্রহণযোগ্য নয়।
সরকার জানায়, বি২ লেভেলের ভাষা দক্ষতা মানে হচ্ছে— আবেদনকারীর কথা বলা, শোনা, পড়া ও লেখায় যথেষ্ট দখল থাকতে হবে, এবং তা সরকার স্বীকৃত সংস্থার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।
বিশেষ করে স্কেল-আপ ভিসার আবেদনকারীরা, যারা দ্রুত বর্ধনশীল ব্যবসা খাতে কাজ করতে চান, এবং হাই পটেনশিয়াল ক্যাটাগরির প্রার্থীরা, যারা গত পাঁচ বছরে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাদের এই শর্ত পূরণ করতে হবে।
সরকার জানিয়েছে, অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরির জন্য ভাষাগত যোগ্যতার নিয়ম সময়মতো জানানো হবে।
এই পদক্ষেপকে অভিবাসন ব্যবস্থার আরও নিয়ন্ত্রিত ও স্বচ্ছ করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে প্রতিবছর যুক্তরাজ্যে অভিবাসীর সংখ্যা ১ লাখ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ড. মাদেলেইন সাম্পশন বলেন, এই নতুন নিয়মের ফলে অনেক মাঝারি স্তরের (ম্যানুয়েল ও টেকনিক্যাল) চাকরির ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যেখানে এত উচ্চ মানের ভাষাগত দক্ষতা প্রয়োজন হয় না।
অন্যদিকে, অভিবাসন আইনজীবী আফসানা আক্তার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে "অস্বচ্ছ" উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাজ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যাদের এই মানের ভাষা দক্ষতা নেই। ফলে, অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মী এই নিয়মের কারণে যুক্তরাজ্যে আসতে পারবেন না, যদিও তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন।