প্রবাস

শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না: রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দুই বাংলাদেশির আকুতি


প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

শেয়াল-কুকুরের মতো মরতে চাই না: রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র থেকে দুই বাংলাদেশির আকুতি
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে আটকে পড়া দুই বাংলাদেশি যুবক। তাদের অভিযোগ, উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হলেও পরে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি যুদ্ধক্ষেত্রের একটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে ধারণ করা তাদের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার গোদাশিমলা এলাকার আরমান আলী ও মাইনউদ্দিন নামের দুই বাংলাদেশি যুবক নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরছেন। তারা দাবি করেন, ড্রোন কোম্পানি ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। পরে কয়েক দিনের প্রশিক্ষণের পর সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের ফ্রন্টলাইনে পাঠানো হয়।

আরমান আলী ভিডিওতে বলেন, তাদের ১৬ জনের একটি দল থেকে ১২ জন মারা গেছে এবং চারজন জীবিত আছেন, এর মধ্যে কয়েকজন আহত। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আহত অবস্থায় ফিরে আসার পরও তাদের আবার যুদ্ধে পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়। রাজি না হলে মারধর ও খাবার-পানি ছাড়া বাংকারে আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আবেগঘন কণ্ঠে আরমান বলেন, তারা এই জীবন চাননি এবং পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন। তার পাঁচ মাস বয়সী কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশে ফিরে মরতে পারার সুযোগ দেওয়ার আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, এভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া পরিস্থিতিতে তারা বাঁচতে চান।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আরমানের পরিবার চরম উদ্বেগে রয়েছে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ দুই দিন আগে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, রাশিয়ার দূতাবাসে যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, বন্দুকের মুখে তাদের দিয়ে চুক্তিতে সই করানো হয়েছে। আরমানের মা ও পরিবারের সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হবে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর দুই বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পরিবারগুলোর একমাত্র প্রত্যাশা যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে তাদের স্বজনরা যেন জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারেন।