ধর্ম
কম বয়সে মারা গেলে ইসলামে কী বলে?
ছোটবেলায় সন্তান হারানোর বেদনা কতটা গভীর, তা কেবল সেই বাবা-মাই বোঝেন, যাদের বুক খালি হয়ে গেছে। তবে ইসলাম এই বেদনার মাঝে দিয়েছে অনন্ত সান্ত্বনা ও জান্নাতের সুসংবাদ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে আছে, যারা অল্প বয়সে মারা যায়, তারা জান্নাতের প্রজাপতির মতো হবে।
সহিহ মুসলিম শরিফে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে—হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন: “ছোট বয়সে মৃত্যুবরণকারী সন্তানরা জান্নাতের প্রজাপতির মতো। তারা তাদের বাবা-মার কাপড় আঁকড়ে ধরবে এবং তখনই ছাড়বে, যখন আল্লাহ তাদের বাবা-মাকেও জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (সহিহ মুসলিম: ৬৩৭০)
সন্তান হারানো এক সাহাবিকে নবীজি (সা.) জিজ্ঞাসা করেছিলেন—তুমি কি চাও, তোমার ছেলে দুনিয়ায় থাকত? নাকি সে কেয়ামতের দিন জান্নাতের দরজায় দাঁড়িয়ে তোমার জন্য দরজা খুলে দেবে? সে সাহাবি বলেন, "আমি চাই সে জান্নাতে আমার জন্য দরজা খুলে দিক।" নবীজি (সা.) বলেন, “তাহলে তাই হবে।” (সুনানে নাসাঈ: ২০৯০)
আরেক হাদিসে আছে, “যে মুসলমানের তিনটি সন্তান ছোট বয়সে মারা যায়, আল্লাহ তার প্রতি রহম করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।”—(সহিহ বোখারি: ১৩৮১)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “আল্লাহ ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসা করেন, আমার বান্দার সন্তানকে তোমরা নিয়ে গেলে? তারা বললে হ্যাঁ। আল্লাহ জিজ্ঞাসা করেন, সে কী বলেছে? ফেরেশতা বলে, সে 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' বলেছে এবং আপনার প্রশংসা করেছে। তখন আল্লাহ বলেন, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করো, যার নাম হবে ‘বাইতুল হামদ’ বা প্রশংসার ঘর।” (সুনানে তিরমিজি: ১০২১)
অন্য হাদিসে আছে- “শিশুরা জান্নাতের পাহাড়ে থাকবে, যেখানে হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার স্ত্রী সারা (আ.) তাদের লালন-পালন করবেন। কেয়ামতের দিন তাদের মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”—(সহিহুল জামে: ১০২৩)
সন্তান হারানো অবশ্যই কষ্টের বিষয়। কিন্তু যে মা-বাবা সবর করেন, আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই হাদিসগুলো শুধু সান্ত্বনার নয়, বরং এক অপার আশার বার্তা—কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুদের কারণে জান্নাতের দরজা মা-বাবার জন্য খুলে যাবে।