ধর্ম
রমজানের জন্য যেভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন
রমজানে বেশি বেশি ইবাদতের সংকল্প থাকে অনেকেরই, কিন্তু পরিকল্পনা করেও ইবাদতে সময় কাটানোর সুযোগ হয় না। তাই রমজান শুরুর আগে থেকেই পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
রমজানের প্রস্তুতির সূচনা হয় রজব থেকে। শাবান মাসে পুরোদমে প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় বরকতময় রমজান। প্রখ্যাত আলেম ইবনে রাজাব আল-হাম্বলি তার গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন, রজব হলো বীজ বপনের মাস, শাবান সেচের মাস আর রমজান ফসল তোলার মাস। অর্থাৎ, রজবে প্রস্তুতি নিলে রমজানে তার সুফল পাওয়া সহজ হয়।
রমজানের প্রস্তুতির জন্য আটটি সহজ ও বাস্তবধর্মী পরামর্শ তুলে ধরা হলো—
১. একটি লিখিত চেকলিস্ট: প্রথমেই একটি লিখিত চেকলিস্ট তৈরি করতে হবে। রমজানে কী কী ইবাদত বা ভালো কাজ করবেন, তা কাগজে লিখে চোখের সামনে রাখলে লক্ষ্য স্থির থাকে।
২.বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ: প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে কোরআনের এক পৃষ্ঠা পড়া বা নিয়মিত দান করার মতো ছোট ছোট আমলকে গুরুত্ব দেওয়া। নবী করিম (সা.) বলেছেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা অল্প হয়।
৩.রমজানের তাৎপর্য বোঝা: রোজার উদ্দেশ্য, ফজিলত, দোয়া, তারাবি, কিয়ামুল লাইলসহ বিভিন্ন ইবাদতের নিয়ম আগেভাগে জেনে নেওয়া উপকারী।
৪. রজব ও শাবান মাসে সুন্নত রোজা রাখা: সোম ও বৃহস্পতিবার বা প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে নফল রোজা রাখলে শরীর ও মন রমজানের জন্য প্রস্তুত হয়।
৫.ঈদ বা শাওয়ালের প্রস্তুতি: কেনাকাটা ও ঘর গোছানোর কাজ রমজানের আগে শেষ করলে পুরো মাস ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
৬.খাবারের পরিকল্পনা ও হালকা ব্যায়াম: পরিমিত আহার ও নিয়মিত শরীরচর্চা রোজার সময় কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করে।
৭.নারীদের মাসিককালীন প্রস্তুতি: এই সময়ে নামাজ ও রোজা না থাকলেও জিকির, দান-সদকা ও পরিবারের কাজে সহায়তার মাধ্যমে সওয়াব অর্জন সম্ভব।
৮. নিয়মিত দোয়া করা: সাহাবিরা রমজানের আগের ছয় মাস এই মাসে পৌঁছানোর দোয়া করতেন এবং পরের ছয় মাস আমল কবুল হওয়ার দোয়া করতেন। বহুল পঠিত একটি দোয়ায় বলা হয়, হে আল্লাহ, রজব ও শাবান আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
রমজানের প্রকৃত বরকত পেতে হলে শুধু আবেগ নয়, প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি। রজব থেকেই সেই প্রস্তুতি শুরু করলে রমজান হতে পারে জীবনের সেরা আত্মশুদ্ধির মাস।