খেলা
ব্যালন ডি’অর জয় করে ইতিহাস গড়লেন উসমান দেম্বেলে
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর এ বছর উঠলো উসমান দেম্বেলের হাতে। আলোচনায় ছিলেন শুরু থেকেই। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় দেম্বেলেকে ঘিরে দ্বিধা ছিল খুবই সামান্য। অবশেষে প্যারিসের বিখ্যাত শাতলিয়ে থিয়েটারে কিংবদন্তি রোনালদিনিওর হাত থেকে কাঙ্ক্ষিত সোনালি ট্রফি হাতে তুলে নেন প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ফরোয়ার্ড।
বর্ষসেরা হওয়ার লড়াইয়ে দেম্বেলের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বার্সেলোনার কিশোর সেনসেশন লামিন ইয়ামাল। তবে অনুষ্ঠানের শুরুতেই অনিশ্চয়তার মেঘ কেটে যায়—ইয়ামালকে দেওয়া হয় সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার। এরপর থেকেই ১২ কেজি ওজনের খাঁটি সোনার ট্রফিটি যেন অপেক্ষা করছিল দেম্বেলের স্পর্শের জন্য।
পুরস্কার হাতে নিয়ে আবেগে ভেসেছেন দেম্বেলে। বরাবরই শান্ত স্বভাবের এই তারকা আনন্দাশ্রু ধরে রাখতে পারেননি। পরিবার থেকে শুরু করে সমর্থক—সবার জন্যই এই অর্জন ছিল পরিপূর্ণতার মুহূর্ত।
শাতলিয়ে থিয়েটারের রাতটি হয়ে উঠেছিল পিএসজির জয়জয়কারের মঞ্চ। দেম্বেলের সাফল্যের পাশাপাশি সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন জিয়ানলুইজি দোনারুম্মা। একইসঙ্গে পিএসজিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো লুইস এনরিকে হয়েছেন বর্ষসেরা কোচ। ফলে সেরা ক্লাবের পুরস্কারও উঠেছে প্যারিসিয়ানদের ঘরেই।
নারী বিভাগেও ছিলো উজ্জ্বল অর্জন। টানা তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতে অনন্য কীর্তি গড়েছেন বার্সেলোনার স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আইতানা বোনমাতি। তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছে সমগ্র ফুটবল বিশ্ব।
এমন এক আনন্দঘন মুহূর্তেও ভুলে যায়নি ফরাসি ফুটবল। স্মরণ করা হয়েছে অকাল প্রয়াত তরুণ ফুটবলার দিয়োগো জটাকে, যাকে ঘিরে ছিলো অফুরন্ত সম্ভাবনা।
প্যারিসের ঝলমলে আলোয় ভরা এই রাতটি প্রমাণ করেছে—ফুটবল কেবল খেলা নয়, আবেগ, স্বপ্ন আর ইতিহাস গড়ার এক অনন্য মঞ্চ।