খেলা
৩০ পেরোনো খেলোয়াড়দের আর জাতীয় দলে রাখবেন না আনচেলত্তি
২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিল জাতীয় দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের নতুন করে গড়ে তুলতে ৩০ বছরের বেশি বয়সী কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে আর জাতীয় দলের পরিকল্পনায় রাখবেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোএসপোর্তে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, “এই বিশ্বকাপের মাধ্যমে ব্রাজিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজন্মের সমাপ্তি ঘটেছে। নেইমার, দানিলো ও কাসেমিরো—বিশ্বকাপে ৩০ বছরের বেশি বয়সী যেসব খেলোয়াড় ছিলেন, তাদের সময় শেষ হয়েছে।”
নেইমার ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে ৩৫ বছর বয়সী দানিলো ও ৩৪ বছর বয়সী কাসেমিরো এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর না নিলেও তাদের আর জাতীয় দলে বিবেচনা করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন ব্রাজিল কোচ।
আনচেলত্তির লক্ষ্য এখন ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা সামনে রেখে একটি নতুন ও প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম লক্ষ্য ২০২৮ সালের কোপা আমেরিকা। এমন নতুন খেলোয়াড় খুঁজে বের করতে চাই, যারা দ্রুত জাতীয় দলে অবদান রাখতে পারবে। এখনই ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি না।”
তবে পুরো দল একসঙ্গে বদলে ফেলার পক্ষে নন ইতালিয়ান এই কোচ। তার মতে, নতুনদের পথ দেখাতে কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে দলে রাখা প্রয়োজন।
“আমি বলছি না যে ২৬ জনকেই বদলে ফেলব। মারকিনিওসের মতো কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকবে, যারা নতুনদের পথ দেখাবে এবং দলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে,” বলেন আনচেলত্তি।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ফিফা উইন্ডোতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ভারতে সম্ভাব্য আরেকটি ম্যাচে নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর পরাজয়ের দায়ও নিজের কাঁধে নিয়েছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, “হাইড্রেশন বিরতির পর আমি দলের কাঠামো বদলে ফেলেছিলাম। সেখান থেকেই আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাই। পরে নেইমারকে নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সেটা কাজে আসেনি।”
খেলার ধরন নিয়েও নিজের ভাবনা তুলে ধরে আনচেলত্তি বলেন, ভিনিসিউস জুনিয়র, এন্দ্রিক, এস্তেভাও ও রাফিনিয়ার মতো গতিময় আক্রমণভাগ থাকায় ব্রাজিলের আরও সরাসরি ও দ্রুতগতির ফুটবল খেলা উচিত।
এছাড়া গোলরক্ষকের পজিশনেও নতুন প্রতিভা খোঁজার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আলিসন ও এডারসনের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করলেও ব্রাজিলিয়ান লিগে উঠে আসা তরুণ গোলকিপারদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন সেলেসাও কোচ।