ক্যাম্পাস
জাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে ৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং ২১টি হলের নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিএনপিপন্থী ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অদম্য ২৪’ স্তম্ভের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইশতেহার প্রকাশ করেন ভিপি (সহসভাপতি) পদপ্রার্থী শেখ সাদী হাসান। এতে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্যানেলের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী, পুরুষ যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদউল ইসলাম, নারী যুগ্ম সম্পাদক আনজুমান আরা ইক্রা ও অন্যান্য প্রার্থীরা।
ইশতেহারের আট দফা হলো- ১.আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও গবেষণা; ২. শিক্ষাবান্ধব, নিরাপদ, মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় ক্যাম্পাস; ৩. পরিকল্পিত আবাসন ও খাবারের উন্নত মান নিশ্চিতকরণ; ৪. নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা; ৫. মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা; ৬. সুসমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা; ৭. ক্রীড়াচর্চা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য; ৮. পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাণীবান্ধব ক্যাম্পাস।
জাকসুর ভিপি প্রার্থী শেখ সাদী হাসান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আমাদের ইশতেহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। আমরা সবাই মিলে এ ইশতেহার বাস্তবায়নে কাজ করে যাব, ইনশাল্লাহ।’
এ সময় তিনি আট দফার অধীনে আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দেন। সেগুলো হলো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলাফল—যাবতীয় সকল কার্যক্রম পরিচালিত হবে একাডেমিক ক্যালেন্ডার মোতাবেক; ক্যালেন্ডারে নিয়মিত জাকসু নির্বাচনকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে; কোর্স ক্যারিকুলামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে; প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বুনিয়াদী ইংরেজি কোর্স চালু করা হবে; একটি আন্তর্জাতিক মানের ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট চালু করা হবে; ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে পার্টটাইম চাকুরির সুযোগ তৈরি করা হবে; মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে সকল শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে; বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহীদের স্বল্পসুদে ব্যাংক লোনের সুবিধা প্রদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া জোরপূর্বক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করা; গেস্টরুম-গণরুম সংস্কৃতি, র্যাগিং, নিপীড়ন, মানসিকভাবে হেনস্থা, শিক্ষার্থীদের অবদমিত করে জিম্মি করা এবং দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসের আত্মবিনাশী প্রক্রিয়াকে চিরতরে ক্যাম্পাস থেকে উৎখাত করা হবে; সকল মত, পথ, মতাদর্শ, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, পাহাড়, সমতলের সহাবস্থান, সমতা ও বৈচিত্রের মাঝে একতা নিশ্চিত করা হবে; প্রতিটি অনুষদে ও কেন্দ্রীয় মসজিদে নারীদের জন্য নামাজের আলাদা ব্যবস্থা করা হবে। কেন্দ্রীয় মন্দিরটি স্থায়ীকরণ, বাৎসরিক বাজেট বৃদ্ধি ও স্থায়ী পুরোহিত নিয়োগের ব্যবস্থা করা; সকল শিক্ষার্থীর জন্য প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার প্রথমদিন থেকে নিজের একটি সিট নিশ্চিত করা; আবাসিক হলগুলোতে খেলাধুলাসহ সুস্থ ও শিক্ষামূলক বিনোদনের ব্যবস্থা; হলগুলোকে মশা ও ছাড়পোকা থেকে মুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। একইসাথে, নারী রাজনীতিবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
এরই পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের আধুনিকায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও নার্সের উপস্থিতি, অ্যাম্বুলেন্স ও ফার্মেসিসেবা নিশ্চিত এবং জরুরি ওষুধসমূহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবহন সংকট নিরসনকল্পে পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা চালু এবং ইলেকট্রিক কার্টের সংখ্যা বৃদ্ধি ও ভাড়া হ্রাস করা হবে। শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে বিদ্যমান বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন রুট চালু করা হবে। বার্ষিক আন্তবিভাগ ও আন্তঃহল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলাধুলার টুর্নামেন্ট চালু করা হবে। শারীরিক সীমাবদ্ধতাগ্রন্থ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ-প্রকৃতি, উদ্যান, গাছপালা ও সবুজ আবহ সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি করা হবে। বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে বিচরণরত প্রাণীগুলোর জন্য অনুকূল পরিবেশ এবং বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ছাড়াও প্যানেলটির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকল্পে অর্ধ-শতাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
জিএস পদপ্রার্থী তানজিলা হোসাইন বৈশাখী বলেন, ‘আমরা গুম-খুন, অবর্ণনীয় নিপীড়ন, রাষ্ট্রীয় নিষ্পেষণকে মোকাবিলা করে, সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ ও ক্যারিয়ারের হাতছানিকে উপেক্ষা করে, নিজেদের জীবন আর পরিবারকে বিপদাপন্ন করে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ রক্তস্নাত লড়াই করেছি একটি সুন্দর ক্যাম্পাস আর বেটার বাংলাদেশের স্বপ্নকে লালন করে। আমরা লড়াই করেছি সেই ক্যাম্পাসের জন্য, যেখানে নিয়মিত জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করতে পারবে।’