অর্থনীতি
ডলারের আস্থা কমে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছে বিশ্ব, রেকর্ড দামে স্বর্ণ বাজারে অস্থিরতা
দেশে টানা বাড়ছে স্বর্ণের দাম। দুই সপ্তাহে পাঁচ দফা বৃদ্ধির পর এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার টাকায়।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, হঠাৎ এই উর্ধ্বগতির কারণ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও নিরাপদ বিনিয়োগে স্বর্ণের প্রতি মানুষের ঝোঁক।
ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, আর্থিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় মানুষ আগে যেভাবে মার্কিন ডলারের ওপর আস্থা রাখত, এখন সেই জায়গা নিয়েছে স্বর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, “এখন আর সেই দিন নেই—এখন মানুষ স্বর্ণ কেনে।”
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে স্বর্ণের দাম দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়েছে—যা ইতিহাসের সর্বোচ্চের কাছাকাছি। এইচএসবিসি ব্যাংকের পূর্বাভাস, ২০২৬ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
চীন, ভারত, ব্রাজিল ও উজবেকিস্তানের মতো দেশগুলো তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি বিশ্বব্যাপী “ডি-ডলারাইজেশন” বা ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রবণতারই ইঙ্গিত।
২০২২ সালে রাশিয়ার বৈদেশিক রিজার্ভ জব্দের পর থেকে অনেক দেশ ডলারের বিকল্প খুঁজছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক চাপ ডলারের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, “সরকার যত খুশি টাকা ছাপাতে পারে, কিন্তু স্বর্ণ তৈরি করতে পারে না—এই ধারণাই মানুষকে স্বর্ণের দিকে টানছে।”
চলতি অক্টোবরেই দেশে ভরিপ্রতি ২১ হাজার টাকা ও সেপ্টেম্বরে ১৬ হাজার টাকা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু বাজারের ওঠানামা নয়—বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতারই প্রতিফলন।