বিনোদন

'প্লেব্যাক সম্রাট' এন্ড্রু কিশোরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫০ পিএম

'প্লেব্যাক সম্রাট' এন্ড্রু কিশোরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

বাংলা সংগীতের ‘প্লেব্যাক সম্রাট’ খ্যাত কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোরের পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের ৬ জুলাই দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান কোটি ভক্ত-অনুরাগীর প্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। তার প্রয়াণে বাংলা সংগীত জগতে সৃষ্টি হয় অপূরণীয় শূন্যতা, যা আজও গভীরভাবে অনুভব করেন শ্রোতা ও সহশিল্পীরা।

সুদীর্ঘ সংগীত ক্যারিয়ারে ১৫ হাজারের বেশি গান গেয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেন এন্ড্রু কিশোর। মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, হাসি-কান্না—সব অনুভূতির প্রকাশ তার কণ্ঠে পায় এক ভিন্নমাত্রা। ‘আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস’, ‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, ‘কারে দেখাব মনের দুঃখ গো’, ‘আমি চিরকাল প্রেমের কাঙাল’, ‘এক জনমে ভালোবেসে ভরবে না মন’সহ অসংখ্য কালজয়ী গান এখনও মানুষের মুখে মুখে বাজে। তার গাওয়া এসব গান সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এন্ড্রু কিশোর কুমার বাড়ৈ। সংগীতপ্রেমী মা মিনু বাড়ৈ এবং বাবা ক্ষীতিশ চন্দ্র বাড়ৈ—উভয়েই রাজশাহীর একটি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। মা ছিলেন কিশোর কুমারের ভক্ত, প্রিয় শিল্পীর নামে নিজের সন্তানের নাম রাখেন ‘কিশোর’। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি প্রবল অনুরাগী এন্ড্রু কিশোর মাত্র ছয় বছর বয়সে সংগীতের তালিম নিতে শুরু করেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর রাজশাহী বেতারে নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসংগীত ও দেশাত্মবোধক গান বিভাগের তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তবে সিনেমার গান বা প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবেই তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ১৯৭৭ সালে ‘মেইল ট্রেন’ সিনেমায় আলম খানের সুরে প্রথম প্লেব্যাক করেন। তবে শ্রোতামহলে বড় আকারে পরিচিতি পান ১৯৭৯ সালের ‘প্রতিজ্ঞা’ সিনেমার ‘এক চোর যায় চলে’ গানটির মাধ্যমে।

সংগীত জগতের বাইরেও এন্ড্রু কিশোর ছিলেন একজন সংগঠক ও উদ্যোক্তা। ১৯৮৭ সালে তিনি আহমাদ ইউসুফ, আনোয়ার হোসেন বুলু, ডলি জহুর, দিদারুল আলম বাদল, শামসুল ইসলাম নান্টুর সঙ্গে মিলে ‘প্রবাহ’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থা গড়ে তোলেন।

ব্যক্তিজীবনে তিনি লিপিকা অ্যান্ড্রু ইতির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির এক কন্যা মিনিম অ্যান্ড্রু সংজ্ঞা এবং এক পুত্র জয় অ্যান্ড্রু সপ্তক রয়েছে।

 

andi kishior2-Dhaka Prokah News-06-07-2025.jpg
কিংবদন্তি শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। ছবি: সংগৃহীত

সংগীত জীবনে এন্ড্রু কিশোর পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা। তিনি আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পাঁচবার বাচসাস পুরস্কার এবং দুবার মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। তার গাওয়া বহু গান এখনও মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’, ‘আমার বুকের মধ্যে খানে’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান’, ‘ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা’, ‘সবাই তো ভালোবাসা চায়’—এসব গান আজও মানুষের কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে বাজে।

আজ এন্ড্রু কিশোর নেই, কিন্তু তার কণ্ঠে ধারণ করা গান, অনুভূতি ও আবেগ আমাদের মাঝে অমর হয়ে রয়ে গেছে। বাংলা গানের ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।