আইন আদালত

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা ফ্রিজ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

হাদি হত্যা মামলার আসামি ফয়সালের সাড়ে ৬৫ লাখ টাকা ফ্রিজ
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের নামে থাকা বিপুল অঙ্কের অর্থ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তার ৫৩টি ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা মোট ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা ফ্রিজ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)–এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে।

তদন্তে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা হিসাবগুলোতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত মিলেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব অপরাধ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত হওয়ায় হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা জরুরি বলে মত দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অন্যথায় তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও আদালতকে জানানো হয়।

এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এদের মধ্যে বর্তমানে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল।

অন্যদিকে সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারে সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সালের বোন জেসমিন ও তার স্বামী মুফতি মাহমুদ এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়। দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুই দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।