লাইফস্টাইল

তরুণ-তরুণীদের মাঝে বাড়ছে বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডার : কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:০৩ পিএম

তরুণ-তরুণীদের মাঝে বাড়ছে বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডার : কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
ছবি: সংগৃহীত

বিঞ্জ-ইটিং ডিসঅর্ডারকে (Binge Eating Disorder) বাংলায় বলে খাদ্যাভ্যাস সমস্যা। এই রোগকে গুরুত্ব না দিলে রোগী খুবই জটিল অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। অথচ এই রোগে আক্রান্তরা একদমই গুরুত্ব দেন না।

khawa 1.jpg
ছবি: সংগৃহীত

 

ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস। ফলস্বরূপ মানসিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। এটা সাধারণত তরুণদের থেকে তরুণীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি অল্প সময়ের ব্যবধানে সাধারণের চেয়ে বেশি পরিমাণ খাবার  খেয়ে থাকে। বেশি খাওয়ার জন্য মানসিক চাপ অনুভব করে। নিজের ওপর একধরনের রাগ অনুভব করে। অন্য উপসর্গগুলো হলো যতক্ষণ না অস্বস্তি অনুভব করছে, ততক্ষণ খেয়ে যাওয়া। খুব তাড়াতাড়ি খাওয়া।

অন্যদের সঙ্গে বসে খাবার খেতে লজ্জাবোধ এবং নিজের খাবার পরিমাণ সম্বন্ধে অন্যদের জানাতে সংকোচ। মানসিক চাপ কিংবা রাগের সময় খাওয়া। খাওয়ার পরে অপরাধ বোধ হওয়া।

এই ধরনের উপসর্গ ছেলেদের থেকে মেয়েদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। কুড়ি  থেকে তিরিশ বছর বয়সীরা এতে বেশি আক্রান্ত হন।

আক্রান্ত হওয়ার কারণ:

বিঞ্জ ইটিং আচরণগত ও মানসিক কারণে ঘটে থাকে বলে এর আসল কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। কিন্তু ঝুঁকির বিষয়গুলোকে চিহ্নিত করা গেছে। স্থূলতার সঙ্গে বিঞ্জ ইটিং বিশেষভাবে যুক্ত।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিঞ্জ ইটিং ডিসঅর্ডার আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৩০ ভাগই স্থূলকায় হয়। জিনগত কারণেও এমনটা হতে পারে। গবেষকরা বলছেন, যাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের স্তর বেশি থাকে তাদের বিঞ্জ ইটিংয়ের সমস্যা থাকবে। কারণ তারা ডোপামিনের প্রভাবে লোকে অধিক সংবেদনশীল হয় এবং আনন্দ অনুভূতি ও পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা তাদের মধ্যে বেশি থাকে। 

মানসিক কারণগুলো যেমন : মানসিক চাপ, বিষণœতা একাকিত্ব এবং আত্মসম্মানবোধের বিষয়গুলোও বিশেষভাবে দায়ী। নিজেকে ভালো রাখার জন্য রোগীরা খাওয়ার দিকে বেশি করে ঝুঁকে পড়ে।

khawa 4.jpg
ছবি: সংগৃহীত

রোগের লক্ষণ:

বিঞ্জ ইটিং ডিসঅর্ডারের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় একমাত্র তখনই সম্ভব যখন রোগী নিজে স্বীকার করে তার এই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আচরণের ওপর নির্ভর করে সে কী কী অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে। এর মাধ্যমে ডাক্তার রোগ নির্ণয় করতে পারেন।

খাদ্য তালিকার ধরন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরের ওজন থেকেও অবস্থা বিচার করা যায়। বিঞ্জ ইটিং ডিসঅর্ডারের চিকিৎসা মানসিক থেরাপি, কাউন্সেলিং, ওজন কমানোর ব্যায়াম এবং ওষুধের মাধ্যমে করা হয়। আচরণগত   থেরাপি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা কী কী কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি বিঞ্জ ইটিং করছে, তা জানতে পারেন।

বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারের কারণে ওজন বেড়ে যেতে পারে, তেমনটা মোটেই নয়, স্বাভাবিকও থাকতে পারে। কিন্তু ওজন যা-ই হোক না কেন, এমন সমস্যার কারণে বেশির ভাগ মানুষই শরীরের আকার বা আকৃতি নিয়ে বিব্রত বোধ করেন।

khawa 2.jpg
ছবি: সংগৃহীত

বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারের অনেক লক্ষণ থাকতে পারে যেমন:

*খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা। খাওয়া শুরু করলে তা থামানো কঠিন মনে হওয়া।

*নির্দিষ্ট সময়ে খুব বেশি খাবার খাওয়া, যেমন দুই ঘণ্টার মধ্যে অত্যধিক খাবার খেয়ে ফেলা।

*পেট ভরা বা ক্ষুধা না থাকা অবস্থায়ও খাওয়া।

*অতিরিক্ত খাওয়ার সময় খুব দ্রুত খাওয়া।

*খেতে খেতে পেট ভরার পর হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত খাওয়া।

*প্রায়ই একা অথবা লুকিয়ে খাওয়া।

*খাওয়ার পর হতাশা, ঘৃণা, লজ্জা, দুঃখ বা অপরাধবোধে ভোগা।

বুলিমিয়া নার্ভোসা নামের আরেক ধরনের ইটিং ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত কেউ অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পর বমি করেন, পরিপাকের জন্য ওষুধ নেন কিংবা অতিরিক্ত ব্যায়াম করে অতিরিক্ত ক্যালরি ঝরানোর চেষ্টা করেন।

কিন্তু বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে হয়তো সেটা হয় না। এ ক্ষেত্রে কেউ হয়তো ক্ষতিপূরণ হিসেবে ডায়েট করতে বা কম খেতে চেষ্টা করেন, কিন্তু এতে খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আরও বাড়তে পারে।

প্রতিকার:

আপনার যদি বিঞ্জ-ইটিং ডিজঅর্ডারের কোনো লক্ষণ থাকে, যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নিন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আপনার অনুভূতি ও সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলুন।

কী কী কারণে মানসিক চাপ অনুভূত হচ্ছে, উদ্বেগ বা রাগ হচ্ছে তা জানা জরুরি। যদি বিঞ্জ ইটিং কোনো বিশেষ অবস্থার কারণে হয়ে থাকে, তাহলে কাউন্সেলিং দ্বারা সেই অবস্থাটি দূর করা সম্ভব। 

ওজন কমানোর থেরাপি দিয়ে, একজন ব্যক্তির আত্মসম্মান বোধ বা কেমন দেখাচ্ছে তাকে এসব সচেতনতা তৈরি করে এই বিষয়গুলোর নিষ্পত্তি সম্ভব।

থেরাপিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে ওষুধ দেওয়া হয়। যাতে তার মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একটা নির্দিষ্ট খাওয়ার ধরন ও উন্নত খাদ্য তালিকা তৈরি করেও সমস্যা সমাধান করা যায়।

মনে রাখবেন, ইটিং ডিজঅর্ডার হলো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এই আচরণ রোগীর দোষ বা পছন্দ নয়।