রাজনীতি

চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৫ পিএম

চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, এটিও নাকি হুমকি: মির্জা আব্বাস
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, চা খাওয়ার দাওয়াত দেওয়াকেও এখন হুমকি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি শুধু চা খাওয়ার দাওয়াত দিয়েছি, সেটাও নাকি হুমকি। কোথায় কী ঘটে, সব দোষই যেন মির্জা আব্বাসের।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগের গুলবাগ এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রতিপক্ষকে ইঙ্গিত করে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি অযথা উত্তেজনায় জড়াতে চান না। “আমি তাদের কথায় ভীত। তারা যাই বলুক, আমি কোনো ফাঁদে পা দেব না। আমার ভোট আমি চাইব, তারাও ভোট চাইুক। এলাকার জন্য কে কী করেছে আর কী করবে, সেটাই মানুষকে বলুক,” বলেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের বয়সে ঢাকা শহর দাপিয়ে বেড়িয়েছি। শহরজুড়ে আমার বন্ধু-আত্মীয়স্বজন রয়েছে। আমার যত সমর্থক আছে, তোমাদের আত্মীয়স্বজনও তত নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করছে।

গণসংযোগ শেষে মির্জা আব্বাস মালিবাগ মোড়, মৌচাক মোড় ও রাজারবাগ পুলিশ গেট এলাকায় প্রচারণা চালান। পরে বিকেলে ১১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক বড় নির্বাচনী মিছিলে নেতৃত্ব দেন তিনি।

নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্যে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় কিছু অতিথি পাখি দেখা যায়, ভোট শেষ হলে তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। আমি ১৯৯১ সাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। কেউ বলতে পারবে না, আমাকে পাওয়া যায়নি।” আন্দোলন-সংগ্রামের সময় এলাকার মানুষ পাশে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “আমি বহুবার এমপি ছিলাম। কেউ বলতে পারবে না, আমার কাছে এসে খালি হাতে ফিরে গেছে। তবে যা পারব না, তার মিথ্যা আশ্বাস কখনো দিইনি।” নিজেকে ফেরেশতা নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারও ক্ষতি করার জন্য তিনি মিথ্যা বলেন না।

প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “এখন কিছু মাছের পোনা এসেছে। এদের ঠিকানা কী? আমি জেলে থাকাকালেও এলাকার মানুষ প্রয়োজনে আমার বাসায় গেছে। আমার স্ত্রী ও কর্মকর্তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিপক্ষ নেতারা কয়জন মানুষের জানাজা বা বিয়েতে অংশ নিয়েছেন।

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন বলছে, চাঁদাবাজি না কমালে লাল কার্ড দেখাবে। চাঁদাবাজি তো আপনারাই করছেন। অথচ চাঁদাবাজদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণই প্রতিপক্ষকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেষে মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সবকিছুর দায় বিএনপির ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে এবং পরিকল্পিতভাবে দেশে অশান্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।