রাজনীতি
জাতীয় সমাবেশে বিএনপি, এবি পার্টিকে আমন্ত্রণ জানায়নি জামায়াত!
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জাতীয় সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদসহ ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানিয়েছ জামায়াতে ইসলামী। তবে আমন্ত্রণ করেনি ২৪ বছরের জোটসঙ্গী বিএনপিকে। পিআরের পক্ষে থাকার পরও দলত্যাগী জামায়াতের সাবেক নেতাদের দল এবি পার্টিকেও জানায়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের গণমাধ্যমকে জানান, তারা প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) বা আনুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে থাকা দলগুলোকেই এই সমাবেশে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই তালিকায় আছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদসহ ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী’ অবস্থানে থাকা দলগুলো।
তবে আমন্ত্রণ তালিকায় জায়গা পায়নি বিএনপি—যাদের সঙ্গে জামায়াতের ছিল দুই যুগেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক জোট। এক জ্যেষ্ঠ জামায়াত নেতা জানান, "এই সমাবেশের মূল বিষয় পিআর ভিত্তিক নির্বাচন। বিএনপি এই ব্যবস্থার ঘোরতর বিরোধী। ফলে আমন্ত্রণ জানালে উভয় পক্ষই অস্বস্তিতে পড়ত। তাই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।"
একইভাবে আমন্ত্রিত হয়নি এবি পার্টিও, যেটি গঠিত হয়েছে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত ও দলত্যাগী নেতাদের নিয়ে। ২০১৯ সালে জামায়াতের পক্ষ থেকে একাত্তরের ভূমিকার জন্য দুঃখ প্রকাশের আহ্বান জানানোয় বহিষ্কৃত হন ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু। পরে তিনি গঠন করেন এবি পার্টি, যেখানে জামায়াত-শিবিরের অনেক সাবেক নেতাকর্মী যোগ দেন।
এবি পার্টিও পিআর-এর পক্ষে অবস্থান নিলেও জামায়াতের এক নেতা জানিয়েছেন, “মঞ্জু জামায়াতের নিয়মিত সমালোচনা করেন। ফলে কর্মীদের মধ্যে তার প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে। সমাবেশে বক্তব্য দিলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকায় এবি পার্টিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।”
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে বিএনপি ও জামায়াত এক জোটে ছিল এবং একসঙ্গে সরকারও পরিচালনা করে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সমঝোতার ভিত্তিতে সেই জোট ভেঙে যায়। এরপর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের সময় বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন থেকেও জামায়াত নিজেদের সরিয়ে নেয়। যদিও সাম্প্রতিক জুলাই অভ্যুত্থানে দুই দলই অংশ নেয়, তারপরও ৫ আগস্টের পর জামায়াত নিজেরাই প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের চেষ্টা করছে। যদিও নেতারা এখনও একে অপরের কর্মসূচিতে মাঝে মাঝে অংশ নিচ্ছেন।