রাজনীতি
ধানের শীষ ছাড়াই জয়: ৭ আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের চমক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের সাতটি আসনে বিএনপির সাবেক প্রভাবশালী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পেয়েছেন। দলীয় প্রতীক ‘ধানের শীষ’ না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে তারা বেসরকারি ফলাফলে নিজ নিজ আসনে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ফলে দলীয় ও জোট প্রার্থীদের পাশাপাশি তারাও সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বিজয়ী স্বতন্ত্ররা প্রার্থীরা হলেন—
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কিশোরগঞ্জ-৫: শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, টাঙ্গাইল-৩: লুৎফর রহমান খান আজাদ, চাঁদপুর-৪: আব্দুল হান্নান, কুমিল্লা-৭: আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১: সালমান ওমর রুবেল, দিনাজপুর-৫: রেজওয়ানুল হক।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন না পাওয়ায় সারা দেশে অর্ধশতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে অংশ নেন। জোটের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া ১৬টি আসনের মধ্যে ১২টিতেই বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে ভোট বিভক্তির প্রভাব পড়ে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনোনয়ন বঞ্চনা ও বহিষ্কার:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-2 আসনটি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। মনোনয়ন না পেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন পেলেও শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ পান সৈয়দ এহসানুল হুদা। বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বহিষ্কৃত হন।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে দলীয় প্রার্থী করা হয় ওবায়দুল হক নাসিরকে। মনোনয়ন না পেয়ে সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
চাঁদপুর-৪ আসনে সাবেক এমপি লায়ন হারুনুর রশীদ দলীয় মনোনয়ন পান। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বহিষ্কৃত হন।
কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ পান। মনোনয়ন না পেয়ে আতিকুল আলম শাওন স্বতন্ত্র হিসেবে লড়েন এবং দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
ময়মনসিংহ-১ আসনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মনোনয়ন পান। বঞ্চিত হয়ে সালমান ওমর রুবেল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।
দিনাজপুর-৫ আসনে ব্যারিস্টার এ কে এম কামরুজ্জামানকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। রেজওয়ানুল হক স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয় পান।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্টদের বহিষ্কার করা হলেও, নির্বাচনী মাঠে তাদের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। এই ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।