প্রবাস

ইউরোপ যাওয়ার পথে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, ১৮ জনই বাংলাদেশি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম

ইউরোপ যাওয়ার পথে ২২ অভিবাসীর মৃত্যু, ১৮ জনই বাংলাদেশি
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিস কোস্ট গার্ড জানায়, ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষা সংস্থা Frontex-এর একটি জাহাজ ভূমধ্যসাগরের ক্রিট দ্বীপ সংলগ্ন এলাকা থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা AFP জানায়, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, যাত্রাপথে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মুজিবুর রহমান (৪৫), নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং সাহান (২৫)।

কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, নৌকাটি গত ২১ মার্চ তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়া সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, পানির অভাব ও ক্লান্তিতে একে একে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণ সুদানের ওই দুই নাগরিকের বয়স ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন-এর তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এ পথে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর অভিবাসন নীতি, দালালচক্রের ঝুঁকিপূর্ণ রুট এবং নিরাপত্তাহীন যাত্রাই এমন মর্মান্তিক ঘটনার মূল কারণ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় আরও মানবিক ও নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে।