খেলা
মেক্সিকোর কার্টেল সহিংসতায় প্রশ্ন চিহ্ন বিশ্বকাপ আয়োজনের নিরাপত্তায়
২০২৬ সালের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-এর শুরু মাত্র চার মাস দূরে থাকলেও মেক্সিকো-তে সম্প্রতি কার্টেল সহিংসতা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক দর্শক ও ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কুখ্যাত কার্টেল নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগুয়েরা সেরভান্তেস, যিনি ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত এবং জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি)-এর প্রধান ছিলেন, বিশেষ বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পরপরই দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে সহিংস প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্দুকধারীরা একাধিক অঙ্গরাজ্যে যানবাহনে আগুন দিয়েছে ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এতে বড় অংশের জনজীবন ও ব্যবসা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বকাপের স্বাগতিক শহরগুলোর মধ্যে গুয়াদালাহারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পাবলো লেমুস বাসিন্দাদের ঘরে থাকার আহ্বান জানান এবং গণপরিবহন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরে যাত্রীরা আতঙ্কে দৌড়াচ্ছেন। উপকূলীয় পর্যটন শহর পুয়ের্তো ভাল্লার্তা-তেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে এয়ার কানাডা, ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ও আমেরিকান এয়ারলাইন্স। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এ তথ্য নিশ্চিত করেন এবং মেক্সিকোর বাহিনীকে অভিনন্দন জানান।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউম নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করে জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, অধিকাংশ অঞ্চলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে সমালোচকরা সতর্ক করেছেন যে, পুড়ে যাওয়া যানবাহন, বাতিল স্কুল কার্যক্রম ও সামাজিক মাধ্যমে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ দৃশ্য আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সিজেএনজি কার্টেল দীর্ঘদিন ধরে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত এবং শক্তিশালী; নেতৃত্ব পরিবর্তনের পর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বা প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর লড়াই দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এ অবস্থায় বড় প্রশ্ন ফিফার সামনে দাঁড়িয়েছে-মেক্সিকো কি বিশ্বকাপে আসা প্রায় ১০ লাখ বিদেশি দর্শকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে? ফিফা এখনো সরাসরি মন্তব্য করেনি। তবে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য পররাষ্ট্র দপ্তর মেক্সিকোয় থাকা ব্রিটিশ নাগরিকদের ঘরে থাকার এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে মেক্সিকোকে প্রমাণ করতে হবে, তারা নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম। কিন্তু সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই চ্যালেঞ্জকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
সূত্র: তুর্কি টুডে