শিল্প-সংস্কৃতি

একুশে পদকপ্রাপ্ত পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী মারা গেছেন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৫, ০৪:৪৬ পিএম

একুশে পদকপ্রাপ্ত পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী মারা গেছেন
পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

উপমহাদেশে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজশাহী মহানগরীর রানীবাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভোগার পর জীবনের শেষ অধ্যায়টি পার করছিলেন পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায়। কয়েকদিন হাসপাতালে থাকার পর কিছুটা উন্নতি হলে ফেরানো হয় বাসায়। তবে অবস্থার অবনতি ঘটায় মঙ্গলবার সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই গুণীজন।

১৯২৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার চৌদ্দরশি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন পণ্ডিত অমরেশ রায় চৌধুরী। ছোটবেলা থেকেই রাগ সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ গড়ে ওঠে। ১৯৪৫ সালে বাইশরশি শিবসুন্দরী অ্যাকাডেমি থেকে ম্যাট্রিক পাস করে সংগীতে উচ্চশিক্ষা নিতে থাকেন নিষ্ঠার সঙ্গে।

amaresh_Dhakaprokash.jpg

তিনি শুধু একজন সংগীতশিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন সংগীতচর্চার এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান। ১৯৬১ সাল থেকে রাজশাহীর মোহিনী নিকেতন বাসভবনে বসবাস করে এই অঞ্চলে উচ্চাঙ্গ সংগীতের চর্চা ছড়িয়ে দেন তিনি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারে শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন, পাশাপাশি অসংখ্য শিষ্য গড়েও গেছেন।

দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা পদক (২০১৪), এবং ২০১৬ সালে ভূষিত হন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক-এ।

তার ছেলে অমিত রায় চৌধুরী জানান, “গত ১৪-১৫ দিন ধরে বাবা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। আজ সকালে আমাদের চোখের সামনে তিনি চলে গেলেন। শহরের পঞ্চবটি মহাশ্মশানে সন্ধ্যা ৬টায় তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৪টা থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তার মরদেহ রাখা হবে।”

এই মহান সংগীত সাধকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন। রেখে গেলেন দুই ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী, শিষ্য ও ভক্ত। তবে তার গানে, সাধনায় ও স্মৃতিতে তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন এই বাংলার সংগীতপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে।