আইন আদালত

গণহত্যার নির্দেশ: ইনু–মাকসুদ ও তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ প্রকাশে আলোড়ন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৫:৫৫ পিএম

গণহত্যার নির্দেশ: ইনু–মাকসুদ ও তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ প্রকাশে আলোড়ন
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলন দমন অভিযানে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছাত্র–জনতার অবস্থান লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া, এমনকি হেলিকপ্টার থেকে গুলির নির্দেশ—এসব অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কলরেকর্ড উপস্থাপন করেছে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে দুপুর ১টার দিকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সাক্ষ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে মোট ৬৯টি কল রেকর্ড এবং তিনটি নম্বরের সিডিআর সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি কল রেকর্ডে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে—জুলাই আন্দোলন দমনে ছাত্র–জনতার ওপর গুলি চালানো এবং গণঅভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনাকে বলতে শোনা যায়—“রাজাকারদের যেভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে, আন্দোলনকারীদেরও একইভাবে ফাঁসি দেওয়া হবে।”

অন্য এক ফোনালাপে মেয়র ফজলে নূর তাপসকে আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা জানান, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে শেখ হাসিনার তিনটি ফোনালাপের মধ্যে দুটি ট্রাইব্যুনালে শোনানো হয়। সেখানে ব্লক রেইড, গণগ্রেফতার, বোমা হামলা ও গুলি চালানোর নির্দেশনা পাওয়া যায় বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

তিনি আদালতে আরও বলেন, “জব্দ করা কল রেকর্ডগুলো স্পষ্ট প্রমাণ করছে, শেখ হাসিনা আন্দোলন দমনে সরাসরি গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।”

তবে ৬৯টি কল রেকর্ডের মধ্যে ৬১টির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, মাকসুদ কামালকে ঘিরে তদন্ত এখনো চলমান।

এই সাক্ষ্য ও কল রেকর্ড প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের বিচার ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।