রাজনীতি
আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অপরাধের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট—কেউই আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। অপরাধ করলে প্রত্যেককেই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশে আবারও ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে, তবে জুলাই যোদ্ধারা সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেবে না।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল ময়দানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, একসময় যারা নির্যাতিত ছিল, তারা যেন আজ নির্যাতনকারী না হয়। মানুষের অধিকার হরণ করলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’—এই ধারণার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আগামীতে অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রী-প্রেসিডেন্টও ছাড় পাবে না। অপরাধ করে কেউ দায় মুক্তি পাবে না।
প্রতিশোধের রাজনীতির সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, পূর্ববর্তী একটি সরকার দেশ ও জাতির ওপর প্রতিশোধমূলক রাজনীতি চালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী সেই পথ অনুসরণ করবে না। প্রতিশোধের রাজনীতিকে তারা হারাম মনে করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতি হবে নীতিনির্ভর, আর সেই নীতির আলোতেই রাষ্ট্র পরিচালিত হবে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, অফিস বন্ধ, নিবন্ধন বাতিল, দল নিষিদ্ধকরণ ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, শহীদদের রক্ত ও যুবসমাজের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে।
ক্ষমতায় গেলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কেউ অপরাধ করলে তার বিচার হবে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী। কাউকে হয়রানি করা হবে না এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, দুনিয়াতে বিচার না হলেও আখিরাতে জুলুমের বিচার অবশ্যই হবে।
জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারলে সমাজ থেকে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও লুটপাট নির্মূল করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও ফ্যাসিবাদী নীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ বন্ধ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্র চলবে নাগরিকত্ব ও যোগ্যতার ভিত্তিতে—দল, মত কিংবা পরিচয়ের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না।
সমাবেশের শেষ পর্যায়ে কুমিল্লার ১১টি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।