অর্থনীতি

যেভাবে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন, জেনে নিন শর্ত, নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৭ পিএম

যেভাবে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন, জেনে নিন শর্ত, নিয়ম ও আবেদন প্রক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট একবার করা হলে আগে তা বাতিলের কোনো সুযোগ ছিল না। এতে অনেকেই অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিলতায় পড়তেন। তবে সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া নতুন আয়কর আইনে টিন সার্টিফিকেট বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

করদাতারা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে যথাযথ কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে তাদের টিন নিবন্ধন বাতিল করা যাবে। তবে এজন্য কর কর্মকর্তারা প্রথমে নিশ্চিত হবেন যে করদাতার কোনো বকেয়া কর নেই এবং তার উল্লেখিত কারণগুলো যৌক্তিক।

যে ৬ শর্তে টিন বাতিলের আবেদন করা যাবে:

১. করদাতার রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা না থাকলে।
২. মৃত্যু, অবসায়ন বা প্রতিষ্ঠান অবলুপ্তির কারণে অস্তিত্বহীন হলে।
৩. স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করলে এবং দেশে কোনো আয় না থাকলে।
৪. ডুপ্লিকেট বা ভুল নিবন্ধন পাওয়া গেলে।
৫. আইনি মর্যাদা পরিবর্তন হলে।
৬. অন্য কোনো আইনানুগ কারণে টিন বাতিলের প্রয়োজন হলে।

কারা টিন বাতিল করতে পারবেন, যাদের আয় করযোগ্য সীমার নিচে। সাধারণ করদাতার জন্য সীমা: বছরে ৩.৫ লাখ টাকা। নারী ও ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে করদাতার জন্য: বছরে ৪ লাখ টাকা। প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতার জন্য: বছরে ৪.৭৫ লাখ টাকা। গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার জন্য: বছরে ৫ লাখ টাকা। আয় হ্রাস পাওয়ায় কর সীমার বাইরে চলে যাওয়া করদাতারা। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা, যদি দেশে করযোগ্য আয় না থাকে। মৃত করদাতাদের টিন (উত্তরাধিকারীরা আবেদন করতে পারবেন, তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে জটিলতা থাকলে বাতিল করা যাবে না)। ডুপ্লিকেট বা ভুলভাবে নিবন্ধিত টিনধারীরা।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বর্তমান টিন সার্টিফিকেটের প্রিন্ট কপি।

জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফটোকপি।

পরপর অন্তত ৩ বছরের শূন্য রিটার্ন দাখিলের প্রাপ্তি স্বীকার পত্র।

টিন বাতিলের আবেদন প্রক্রিয়া

১. টানা তিন বছর শূন্য রিটার্ন দাখিল করতে হবে এবং প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংরক্ষণ করতে হবে।

২. তৃতীয় বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় কর সার্কেল অফিসে উপ-কর কমিশনার বরাবর একটি আবেদনপত্র লিখতে হবে।

৩. আবেদনে টিন বাতিলের যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে।

৪. টিনধারী নিজে বা তার প্রতিনিধি আবেদন জমা দিতে পারবেন।

টিন বাতিলের জন্য সরকার ঘোষিত কোনো ফি নেই। এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যাবে।

কর কর্মকর্তারা আবেদন পাওয়ার পর আয়কর ফাইল নথিভুক্ত করবেন। সমস্ত তথ্য যাচাই শেষে আবেদন যথাযথ হলে টিন সার্টিফিকেটটি বাতিল করা হবে। বাতিল হওয়ার পর প্রয়োজনে আবার নতুন করে টিন সার্টিফিকেট করা যাবে।

বাংলাদেশের নাগরিকরা যেমন প্রয়োজনে টিন নিবন্ধন করতে পারেন, তেমনি প্রয়োজন ফুরালে নতুন আইন অনুযায়ী তা বাতিলও করতে পারবেন। সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে জটিলতা ছাড়াই সহজে টিন সার্টিফিকেট বাতিল করা সম্ভব।