আইন আদালত
শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে উসকানি ও গৃহযুদ্ধের চেষ্টা করেছেন: চিফ প্রসিকিউটর
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে রাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে চলা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার যুক্তিতর্কের শেষ দিনে আসামিপক্ষের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “রাষ্ট্রের মধ্যে শেখ হাসিনা একটা সিভিল ওয়ার লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি সেনাবাহিনীকে বলেছিলেন—‘তোমাদের অফিসারদের বিচার হয়, তোমরা কেন রুখে দাঁড়াচ্ছ না?’”
তিনি আরও বলেন, “যারা আজ আসামি হয়েছেন, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। তারা যে ভয়াবহ অপরাধ করেছেন, তা সবার জানা। তবু তিনি বরং উল্টো সাক্ষীদের হুমকি দিয়েছেন, তাদের বাড়িঘর ধ্বংসের কথা বলেছেন, এমনকি লাশ বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।”
তাজুল ইসলাম জানান, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টাও করেছিলেন। তবে “দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও জনগণ তাঁর সেই ফাঁদে পা দেয়নি।”
সব পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের জন্য আগামী ১৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। পরে সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রোভার) হন।
এই মামলায় মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে নিহত ছাত্রনেতা শহীদ আবু সাঈদের পিতা, স্বজন হারানো পরিবারগুলো, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।
এই মামলাটির পাশাপাশি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আরও দুটি মামলা চলছে। একটি আওয়ামী লীগের দীর্ঘ মেয়াদি শাসনামলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে, অন্যটি ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়।
চব্বিশের (২০২৪ সালের) জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ সরকার ও তার অনুগত প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের তদন্ত ও বিচার এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলছে।