প্রবাস

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ৯৬ বাংলাদেশি আটক, দেশে ফেরত


প্রবাস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৫, ০৮:৪৮ এএম

কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ৯৬ বাংলাদেশি আটক, দেশে ফেরত
ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (KLIA) থেকে ৯৬ বাংলাদেশিসহ মোট ১৩১ জন বিদেশিকে আটক করে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষা সংস্থা (AKSEM) জানিয়েছে, গত শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত টার্মিনাল-১–এ পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আটকদের মধ্যে ৯৬ জন বাংলাদেশি, ৩০ জন পাকিস্তানি, ৪ জন ইন্দোনেশিয়ান পুরুষ এবং ১ জন ইন্দোনেশিয়ান নারী ছিলেন। এদের সবাইকে সোমবার (১৪ জুলাই) নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন জানিয়েছে, আটক বিদেশিরা পর্যাপ্ত ভ্রমণ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হন। তাদের অনেকে দাবি করেন তারা ঘুরতে এসেছেন এবং এক মাস মালয়েশিয়ায় থাকার পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু অধিকাংশের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ ছিল না। অনেকের কাছে মাত্র ৫০০ রিংগিত (বাংলাদেশি টাকায় আনুমানিক ১৩ হাজার টাকা) ছিল, যা দীর্ঘমেয়াদি থাকার জন্য খুবই অপ্রতুল।

এছাড়া, অনেকেই হোটেল বুকিংয়ের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি কিংবা নির্ধারিত ইমিগ্রেশন কাউন্টারে রিপোর্ট করেননি। ফলে সন্দেহ তৈরি হয় তারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসলেও প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন।

মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন নীতিমালা অনুযায়ী, আগত ভিজিটরকে প্রমাণ করতে হয় যে তিনি দেশটির উপর বোঝা হবেন না এবং ভ্রমণ-আবাসন সংক্রান্ত প্রস্তুতি যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন। এসব শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় দেশটির সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা একেপিএস এসব ব্যক্তিকে ‘অনুপযুক্ত পর্যটক’ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

একেপিএসের এক কর্মকর্তা বলেন, “মালয়েশিয়ায় ঘুরতে আসা প্রতিটি বিদেশি নাগরিককে অবশ্যই আগে থেকেই যথাযথ আবাসন পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান এবং অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত প্রমাণ প্রস্তুত রাখতে হবে। কারণ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিধিনিষেধ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছি।”

মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের উদ্দেশ্যে অনেকেই ভ্রমণ ভিসার অপব্যবহার করে ঢোকার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে এ ধরনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ হলো, বৈধ কাগজপত্র ও নির্ভরযোগ্য পরিকল্পনা ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের চেষ্টা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে এবং নিয়মনীতি মেনে বিদেশ ভ্রমণের আহ্বান জানিয়েছে।